রাশোমন: সত্য-মিথ্যা ও জুলাই গণঅভ্যুত্থান


সেলিম পারভেজ


আকিরা কুরোসাওয়ার ‘রাশোমন’। আমার দেখার পৃথিবীকে তছনছ করে দিয়েছিল সিনেমাটি। সত্য মিথ্যার আজন্মের জটিল ধাঁধার সহজ সমাধান পেয়েছিলাম সিনেমাটিতে। গতকাল রাতে আবার দেখলাম এবং সিনেমায় আপ্লুত হলাম।

১৯৫০ সালে নির্মিত জাপানি চলচ্চিত্রটি প্রথম দেখায় একটি হত্যাকাণ্ডের গল্প। জঙ্গলের মধ্যে একজন সামুরাই নিহত হয়েছেন। তাঁর স্ত্রী আক্রান্ত হয়েছেন। অভিযুক্ত একজন ডাকাত; তাজোমারু। একজন কাঠুরে ঘটনাটি দেখেছে বলে দাবি করে। একজন পুরোহিত এবং একজন সাধারণ মানুষ রাশোমন গেটের নিচে বসে সেই ঘটনার কথা আলোচনা করে।

কিন্তু সমস্যা হলো,ঘটনাটি একজনের কাছে যেমন, অন্যজনের কাছে তেমন নয়।

চারটি বয়ান আসে। ঘটনার সাথে জড়িত ৩ জন ও একজন প্রত্যক্ষদর্শীর বয়ার। চারটিই হয়ত সত্য। অথচ সত্য একটিই হওয়ার কথা।

কুরোসাওয়ার বিস্ময় এখানেই।

তিনি দর্শককে কোনো সহজ সমাধান দেন না। বরং আমাদের এমন এক জায়গায় দাঁড় করিয়ে দেন, যেখানে প্রশ্ন করতে হয়—মানুষ কি সত্য বলে, নাকি নিজের জন্য গ্রহণযোগ্য একটি গল্প বলে?

আর এই জায়গা থেকেই ‘রাশোমন’কে ২০২৪-এর জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সঙ্গে পাশাপাশি রেখে দেখলে এক অদ্ভুত মিল চোখে পড়ে।

একটি ‘ঘটনা’ ঘটেছে—এটি সত্য।

কিন্তু দুই বছরের মধ্যেই সেই ঘটনার চারপাশে কত গল্প!

কে শুরু করেছিল?কে নেতৃত্ব দিয়েছিল?কার ভূমিকা সবচেয়ে বেশি? কারা মাঠে ছিল?কারা শেষ মুহূর্তে যোগ দিয়েছিল? কারা বিজয়ের সবচেয়ে বড় দাবিদার?

প্রত্যেকে নিজের গল্প বলছে এবং ধীরে ধীরে—ঘটনাটি সত্য থাকা সত্ত্বেও তার চারপাশের সত্য যেন ঝাপসা হয়ে যাচ্ছে।

রাশোমন-এর শুরুতে আমরা জানি—একজন সামুরাই মারা গেছে।

মৃত্যুটি সত্য।কিন্তু কীভাবে সে মারা গেল, কেন মারা গেল, কে দায়ী—সেখানেই শুরু হয় বিভ্রান্তি।

ডাকাত তাজোমারু নিজের গল্প বলে নিজের মতো করে। তার গল্পে সে সাহসী, দুর্ধর্ষ; তার কাজের মধ্যে যেন এক ধরনের বীরত্ব আছে।

সামুরাইয়ের স্ত্রী মাসাগো নিজের অভিজ্ঞতার ভেতর দিয়ে ঘটনাটিকে দেখেন। সেখানে আছে ভয়, অপমান, লজ্জা, ভালোবাসা ও আত্মরক্ষার চেষ্টা।

মৃত সামুরাইয়ের বক্তব্যও আসে। একজন মৃত মানুষও নিজের সম্মান রক্ষা করার জন্য একটি বয়ান তৈরি করে।

আর কাঠুরে, যে নিজেকে একজন নিরপেক্ষ প্রত্যক্ষদর্শী হিসেবে উপস্থাপন করে—শেষ পর্যন্ত সেও পুরো সত্য বলেনি।

চারজন। চারটি গল্প। ঘটনা একটি।

কুরোসাওয়া এখানেই মানুষের একটি ভয়ংকর দুর্বলতা আবিষ্কার করেন; মানুষ শুধু অন্যের কাছে মিথ্যা বলে না; অনেক সময় নিজের কাছেও নিজের একটি সংস্করণ তৈরি করে নেয়।

আমরা নিজেদের ভুলকে ব্যাখ্যা করি। অন্যের ভুলকে বিচার করি। নিজের ভূমিকা বড় করে দেখি। অন্যের ভূমিকা ছোট করি। নিজের সাহস মনে রাখি। নিজের ভয় ভুলে যাই। আর সময় যত যায়, স্মৃতি ও বাস্তবতার মাঝখানের দূরত্ব তত বাড়তে থাকে।

জুলাই: ঘটনা একটি গল্প অনেক

২০২৪-এর জুলাই গণঅভ্যুত্থানকে অস্বীকার করার সুযোগ নেই।

সেখানে রাজপথ ছিল। মিছিল ছিল। স্লোগান ছিল। গুলি ছিল। মৃত্যু ছিল। রক্ত ছিল। আহত মানুষ ছিল। হাসপাতাল ছিল। কান্না ছিল। ইন্টারনেট বন্ধ ছিল। ভিডিও ছিল। ছবি ছিল। প্রত্যক্ষদর্শী ছিল। অর্থাৎ ঘটনাটি বাস্তব।

এটি কোনো উপন্যাস নয়। কোনো কল্পকাহিনি নয়। কোনো সিনেমার চিত্রনাট্য নয়। এটি একটি জাতির সাম্প্রতিক ইতিহাসের রক্তাক্ত অধ্যায়।

কিন্তু ইতিহাসের আরেকটি অদ্ভুত নিয়ম আছে। ঘটনা যত পুরোনো হয়, তার গল্প তত বাড়ে। জুলাইয়ের ক্ষেত্রেও তাই হচ্ছে।

একজন বলছেন—এটি শিক্ষার্থীদের আন্দোলন। আরেকজন বলছেন—এটি ছিল তরুণ প্রজন্মের বিদ্রোহ। কেউ বলছেন—সাধারণ মানুষের ক্ষোভই ছিল এর মূল শক্তি। কেউ বলছেন—রাজনৈতিক শক্তির ভূমিকা ছিল নিয়ামক।

কেউ নিজের ভূমিকার কথা বলছেন। কেউ অন্যের ভূমিকা অস্বীকার করছেন। কেউ বলছেন, “আমরা ছিলাম শুরু থেকেই।”কেউ বলছেন, “শেষ বিজয়টা আমাদের কারণে।”

কেউ আবার এমনভাবে ইতিহাস বলছেন, যেন পুরো ঘটনাটিই তাঁর নিজের রাজনৈতিক জীবনের একটি অধ্যায়। কেউ আবার নিজের চোখে জুলাই বিপ্লব দেখেছেন বলে দাবি করেন। অনেকটা সিনেমার কাঠুরের মতো। এখানেই ‘রাশোমন’ আমাদের সামনে এসে দাঁড়ায়।

সত্য কি তবে নেই?

‘রাশোমন’ দেখার পর অনেকেই হয়তো ভাবতে পারেন তাহলে সত্য বলে কিছু নেই?কুরোসাওয়া আসলে তা বলেন না। বরং তিনি আরও কঠিন একটি কথা বলেন—সত্য আছে। কিন্তু মানুষের কাছে সত্যে পৌঁছানোর পথটি জটিল।

অহংকার সত্যকে ঢেকে দেয়। স্বার্থ সত্যকে বাঁকিয়ে দেয়। ভয় সত্যকে লুকিয়ে রাখে। অপরাধবোধ সত্যকে বদলে দেয়। ক্ষমতা সত্যকে নিজের মতো করে লিখতে চায়। আর সময় সত্যের চারপাশে নতুন নতুন গল্প তৈরি করে।

তাই ২৪-এর গণঅভ্যুত্থানের ক্ষেত্রেও আমাদের দায়িত্ব কারও মুখের গল্পকে অন্ধভাবে সত্য ধরে নেওয়া নয়।

আমাদের দরকার নথি। দরকার প্রত্যক্ষদর্শীর সাক্ষ্য। দরকার ভিডিও ও ছবি। দরকার চিকিৎসা নথি। দরকার স্বাধীন গবেষণা। দরকার নিরপেক্ষ তদন্ত।দরকার শহীদ ও আহতদের ব্যক্তিগত ইতিহাস সংরক্ষণ।

কারণ ইতিহাসের সবচেয়ে বড় শত্রু শুধু মিথ্যা নয়; ভুলে যাওয়া।স সংরক্ষণ। কারণ ইতিহাসের সবচেয়ে বড় শত্রু শুধু মিথ্যা নয়; ভুলে যাওয়া।

কে বিপ্লবের মালিক?

দুই বছর পর আমাদের সামনে একটি অস্বস্তিকর প্রশ্ন দাঁড়িয়েছে; এই গণঅভ্যুত্থানের মালিক কে?

একটি গণঅভ্যুত্থান কি কারও ব্যক্তিগত সম্পত্তি হতে পারে? একজন মানুষের? একটি দলের? একটি সংগঠনের? একটি প্রজন্মের?

সম্ভবত না। গণঅভ্যুত্থান তো গণমানুষের।

যে ছাত্রটি প্রথম রাস্তায় দাঁড়িয়েছিল, তারও। যে তরুণটি মিছিলের সামনে ছিল, তারও। যে রিকশাচালক নিজের আয় ছেড়ে রাস্তায় দাঁড়িয়েছিল, তারও। যে মা সন্তানকে হারিয়েছেন, তাঁরও। যে চিকিৎসক আহতদের সেবা করেছেন, তাঁরও। যে সাংবাদিক ঝুঁকি নিয়ে খবর করেছেন, তাঁরও। যে সাধারণ মানুষ নিজের ঘরের দরজা খুলে আন্দোলনকারীদের আশ্রয় দিয়েছেন, তাঁরও।

এবং সেই অসংখ্য মানুষেরও, যাদের নাম কোনো পোস্টারে নেই, কোনো মঞ্চে নেই, কোনো রাজনৈতিক বক্তব্যে নেই।

ইতিহাস কখনো শুধু পরিচিত মানুষের ইতিহাস নয়। অনেক সময় ইতিহাস তৈরি করে এমন মানুষ, যাদের নাম ইতিহাস লিখতে ভুলে যায়।

জুলাইয়ের শহীদদের দিকে তাকালে একটি প্রশ্নটি খুব কঠিন হয়ে যায়। প্রশ্নটি হলো ;

একজন তরুণের শরীর থেকে বেরিয়ে যাওয়া রক্ত কি কোনো রাজনৈতিক দলের পতাকার রং?

একজন মায়ের বুক খালি হয়ে যাওয়া কি কোনো দলের সাফল্যের পরিসংখ্যান?

একজন আহত মানুষের শরীরে থেকে যাওয়া গুলি কি কোনো রাজনৈতিক দাবির প্রমাণ?

না।

শহীদের রক্ত কোনো দলের সম্পত্তি নয়। এটি জাতির সম্পদ। এটি রাষ্ট্রের বিবেক। এটি ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে আমাদের ঋণ। ঠিক ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধ যেমন এই জাতীর শ্রেষ্ঠ অর্জন।

তাই শহীদদের স্মৃতি নিয়ে সবচেয়ে বড় দায়িত্ব হলো তাদের রাজনৈতিক পরিচয় খুঁজে বের করা নয়; বরং তারা যে পরিবর্তনের আকাঙ্ক্ষা নিয়ে রাস্তায় গিয়েছিল, সেই পরিবর্তনকে বাস্তবে রূপ দেওয়া।

বিপ্লবের পরেই সবচেয়ে কঠিন কাজটি শুরু হয়

একটি সরকার পতন হতে পারে এক দিনে। একটি ক্ষমতার কাঠামো ভেঙে পড়তে পারে কয়েক ঘণ্টায়। কিন্তু একটি রাষ্ট্র বদলাতে সময় লাগে।

একটি সমাজের রাজনৈতিক সংস্কৃতি বদলাতে আরও বেশি সময় লাগে।

আর মানুষের মনে স্বাধীনতা, ন্যায়বিচার ও মর্যাদার সংস্কৃতি প্রতিষ্ঠা করতে লাগে প্রজন্ম।

মাত্র ৩৬ তিনের আন্দোলনে শেখ হাসিনার কর্তৃত্ববাদি সরকারকে হয়ত হটিয়ে দেয়া গেছে কিন্তু গত দুই বছরে সামাজিক, রাজনৈতিক কিংবা নাগরিক জীবনের মান খুব বেশি উন্নয়র ঘটানো সম্ভব হয়নি।

তাই ২৪-এর গণঅভ্যুত্থানের দুই বছর পূর্তিতে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হওয়া উচিত নয় ;“কার অবদান সবচেয়ে বেশি?”

প্রশ্ন হওয়া উচিত—“যে কারণে মানুষ রাস্তায় নেমেছিল, সেই বাংলাদেশ কি আমরা তৈরি করতে পেরেছি?”

ন্যায়বিচার কি প্রতিষ্ঠিত হয়েছে? রাষ্ট্র কি আরও জবাবদিহিমূলক হয়েছে? মানুষ কি আরও নিরাপদ? মতপ্রকাশ কি আরও স্বাধীন? প্রতিষ্ঠানগুলো কি আরও শক্তিশালী? আইনের শাসন কি আরও দৃঢ়?

ক্ষমতার কাছে কি নাগরিকের মর্যাদা আরও বেশি? মানুষের জীবনমান কি উন্নত হয়েছে? 

যদি এসব প্রশ্নের উত্তর খুঁজে পাই, তবেই হয়তো বুঝতে পারব জুলাইয়ের আত্মত্যাগ শুধু ক্ষমতার পালাবদল ঘটায়নি; রাষ্ট্রের চরিত্র বদলের পথও তৈরি করেছে।

শেষ দৃশ্য: বড় আশার জায়গা

এখানেই ‘রাশোমন’ আমাদের সবচেয়ে সুন্দর একটি শিক্ষা দেয়।

সিনেমার প্রায় পুরোটা জুড়ে আমরা মানুষের মিথ্যা, স্বার্থপরতা, অহংকার ও আত্মপ্রবঞ্চনা দেখি।

পুরোহিত মানুষের ওপর বিশ্বাস হারাতে থাকেন। মনে হয়—মানুষ কি আদৌ ভালো হতে পারে?

ঠিক তখনই আসে একটি শিশু। পরিত্যক্ত একটি শিশু। কাঠুরে শিশুটিকে নিজের কাছে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়।

দৃশ্যটি খুব ছোট।

কিন্তু সিনেমার অর্থ যেন সেখানেই বদলে যায়। এতক্ষণ আমরা অতীতের দিকে তাকিয়ে ছিলাম।

শিশুটি আমাদের ভবিষ্যতের দিকে তাকাতে শেখায়। অতীতের সব সত্য আমরা হয়তো জানতে পারব না।

সব মিথ্যার বিচারও হয়তো একদিনে হবে না।কিন্তু ভবিষ্যৎকে বাঁচানোর দায়িত্ব আমাদেরই।এটাই ‘রাশোমনে’র এর সবচেয়ে মানবিক জায়গা।

২৪-এর গণঅভ্যুত্থানের দুই বছর পর বাংলাদেশও যেন ‘রাশোমন গেটের নিচে দাঁড়িয়ে আছে।

চারদিকে গল্প। দাবি। পাল্টা দাবি। অভিযোগ। প্রতিযোগিতা।

কে আসল নায়ক—এই প্রশ্ন। কে বেশি অবদান রেখেছে—এই প্রশ্ন। কে ইতিহাস লিখবে—এই প্রশ্ন।

এসব প্রশ্নের উত্তর অবশ্যই দরকার। ইতিহাসকে বিকৃত হতে দেওয়া যায় না অপরাধকে ক্ষমা করা যায় না। শহীদের আত্মত্যাগকে ভুলে যাওয়া যায় না।কিন্তু এর পাশাপাশি আরেকটি প্রশ্নও করতে হবে—আমরা কি ভবিষ্যৎকে ভুলে যাচ্ছি?

কারণ একটি দেশ শুধু অতীতের স্মৃতিতে বাঁচে না। দেশ বাঁচে তার আগামী প্রজন্মে।যে শিশুটি আজ স্কুলে যাচ্ছে, যে তরুণ আগামীকাল চাকরি খুঁজবে, যে তরুণী নিজের মত প্রকাশ করতে চাইবে, যে কৃষক ন্যায্য দাম চাইবে, যে শ্রমিক নিরাপদ কর্মপরিবেশ চাইবে, যে নাগরিক পুলিশের কাছে গিয়ে ন্যায়বিচার চাইবে।

এই মানুষগুলোর বাংলাদেশই তো ছিল আমাদের আকাঙ্ক্ষা।

মালিকানা নয়, ইতিহাসের দায়

হয়তো আমাদের ভাষাটাই বদলানো দরকার। “জুলাই কার?”এর বদলে যদি বলি—“জুলাই আমাদের কী দায়িত্ব দিয়ে গেছে?”“কে বিপ্লব করেছে?”এর বদলে যদি বলি—“বিপ্লবের পর আমরা কী করলাম?”

“কে সবচেয়ে বড় নায়ক?”এর বদলে যদি বলি—“শহীদদের স্বপ্নের বাংলাদেশ কতটা তৈরি হলো?” তাহলে হয়ত এই ভেদাভেদ বিভক্তি কমে আসবে।

কারণ ইতিহাসের সবচেয়ে বড় অর্জন কোনো একজনের নামে স্মারক নির্মাণ নয়।

সবচেয়ে বড় অর্জন হলো—যে অন্যায়ের বিরুদ্ধে মানুষ জীবন দিয়েছিল, সেই অন্যায় যেন আর ফিরে আসতে না পারে।

‘রাশোমনে’র জঙ্গলের সত্যটি আজও পুরোপুরি আমাদের হাতে আসে না।

কে সত্য বলেছিল? কে নিজের অহংকার বাঁচিয়েছিল?কে ভয় পেয়েছিল?কে মিথ্যা বলেছিল?সিনেমা আমাদের নিশ্চিত উত্তর দেয় না।

কিন্তু শেষ দৃশ্যে কুরোসাওয়া আমাদের একটি উত্তর দেন, ‘আসল সত্যটি জানা নাহলেও মানুষের ভালো হওয়ার সম্ভাবনা শেষ হয়ে যায়না’।

বাংলাদেশের ক্ষেত্রেও তাই।

২৪-এর ইতিহাস নিয়ে বিতর্ক থাকবে। থাকুক। বিভিন্ন বয়ান থাকবে। থাকুক। গবেষণা হবে। হোক।

কারণ ইতিহাসের প্রতি শ্রদ্ধা মানে শুধু অতীতকে স্মরণ করা নয়, ভবিষ্যৎকে তার প্রাপ্য করে দেওয়া।

শেষ কথা

‘রাশোমন’ আমাদের শিখিয়েছে; একটি ঘটনা একাধিকভাবে বলা যায়। মানুষ নিজের সত্য তৈরি করতে পারে। কিন্তু তার অর্থ এই নয় যে সত্য অপ্রয়োজনীয়।

বরং সত্যের অনুসন্ধান আরও জরুরি। ২৪-এর গণঅভ্যুত্থানও তেমন। ঘটনাটি সত্য। রক্ত সত্য। মৃত্যু সত্য। শোক সত্য। আত্মত্যাগ সত্য।

কিন্তু সেই ঘটনার মালিকানা নিয়ে যত গল্প বাড়বে, ততই আমাদের দায়িত্ব হবে সত্যকে আরও যত্নের সঙ্গে সংরক্ষণ করা।

যাতে আগামী প্রজন্ম জানতে পারে কী ঘটেছিল।কারা লড়েছিল। কারা প্রাণ দিয়েছিল। কারা ভুল করেছিল। কারা অন্যায় করেছিল।

সত্য কারও একার নয়। ঘটনা সবার। শহীদের স্মৃতি সবার।

‘রাশোমনে’র শেষের সেই কাঠুরের শিশুটিকে গ্রহণের মতো আমরাও যদি অতীতের অন্ধকার পেরিয়ে সামনে তাকাতে পারি, তবে হয়তো একদিন এই দেশ এমন একটি জায়গায় পৌঁছাবে—যেখানে আর কোনো গণঅভ্যুত্থানের প্রয়োজন হবে না মানুষের মৌলিক অধিকার, মর্যাদা ও ন্যায়বিচারের জন্য।

পারভেজ সেলিম

লেখক, সাংবাদিক ও চলচ্চিত্রকর্মী

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

x