সেলিম পারভেজ
১.
একটি ক্যাম্প। ঘাইহরিণীর ডাক। পুরুষ হরিণের প্রেম। বন্দুকসহ শিকারি মানুষ। একজন কবি। বসন্তে বিস্ময়ের রাত। এই হচ্ছে জীবনানন্দের ‘ক্যাম্পে’ কবিতা।
বনের খুব কাছেই গল্পের শুরু। চৈত্রের জ্যোৎস্নায় বিস্ময় চারদিকে। ঘাইহরিণীর ডাকে হৃদয়ের প্রেম নিয়ে ধরা দিতে আসিতেছে পুরুষ-হরিণসকল। শিকারিও প্রস্তুত। দৃশ্যকল্প সহজ সুন্দর।
বিস্ময়ের রাতে ক্যাম্পের বিছানায় বসে মানুষের জীবনের করুণ এইসব কাহিনী শোনাচ্ছেন এক অলীক কবি। জীবনানন্দ দাশ।
শোনাচ্ছেন, অমোঘ নিয়তির মতো আমরা সকলেই কিভাবে প্রেমের টোপে ধরা পড়ি। নিহত হই। ব্যথা পাই। হরিণীর ডাকে সাড়া দেওয়া হরিণেরা কি এক নিঃসহায়তায়, অনিবার্যতায় কিংবা মোহে মানুষের খাবার প্লেটে চলে আসে।
আহা! হরিণের মতো মানুষের জীবন তেমন নয় কি? একই ট্র্যাজেডি নিয়ে আমরা সকলে কি বেড়ে উঠি না? উঠি। জীবন যাপি। প্রেমে জড়াই। শিল্প ছড়াই। গর্ব করি।
কে জানে, কোনো এক অদৃশ্য পথ ধরে সেই ডাক আমার কাছেও এসে পৌঁছেছিল। তারপর আমিও যেন বেরিয়ে পড়েছিলাম শিল্পসৃষ্টির এক অজানা পথে।
‘ক্যাম্পে’ কবিতাটি তাই হয়ে উঠেছে অনেকের জীবনের মৌলিক দর্শন। শিল্প সৃষ্টির গোপন দলিল। সৃষ্টিশীলতার করুণ নিয়তি।
২.
কবির বয়স তখন ৩২। অনেক দিন ধরে আর তেমন কবিতা প্রকাশিত হচ্ছে না। নতুন কবিতা চেয়ে পাঠালেন বিষ্ণু দে ‘পরিচয়’ পত্রিকার জন্য। কবিতাটি পাওয়ার পর প্রথমে ছাপতে চাননি পত্রিকাটির প্রতিষ্ঠাতা ও সম্পাদক সুধীন্দ্রনাথ দত্ত। পরে বিষ্ণু দে-র চাপাচাপিতে ছাপতে রাজি হন।
১৯৩২ সালে প্রকাশ পায় জীবনানন্দের জাত চিনিয়ে দেওয়া কবিতা ‘ক্যাম্পে’। প্রকাশের পর চারদিকে কেমন এক দমবন্ধ আওয়াজ উঠল। আধুনিক কবিরা যেন দুই ভাগে ভাগ হয়ে গেল। কেউ বলল অশ্লীল কবিতা, কেউ বলল কবিতায় নতুন সূর্য উঠতে শুরু করেছে।
স্বয়ং রবীন্দ্রনাথও ‘ঘাই হরিণী’ প্রসঙ্গে বিরূপ মন্তব্য করেছিলেন—‘ওটা কিচ্ছু হয়নি।’ সজনীকান্ত ঠাট্টা-মশকরা জারি রাখলেন। বুদ্ধদেব বসু ছিলেন জীবনানন্দের অন্যতম প্রধান সমর্থক। বুদ্ধদেব নিজেও পরে লিখেছিলেন, জীবনানন্দের মুখে তিনি শুনেছিলেন—‘ঘাই-হরিণী’ লেখার জন্য তাঁকে তাঁর প্রাক্তন অধ্যাপক মহাশয়ের দ্বারা তিরস্কৃত হতে হয়েছিল।
অশ্লীলতার অভিযোগের জবাবে জীবনানন্দ পরে নিজেই লিখেছিলেন—‘ক্যাম্পে’ অশ্লীল নয়; কবিতাটির মূল সুর মানুষের, কীট-পতঙ্গসহ সমস্ত জীবনের নিঃসঙ্গতা এবং সৃষ্টির হাতে আমাদের অসহায়তার সুর। যদিও তাঁর সেই ব্যাখ্যা জীবিত অবস্থায় প্রকাশিত হয়নি।
কবিতাটি ১৯৩৬ সালে ‘ধূসর পাণ্ডুলিপি’ কাব্যগ্রন্থে স্থান পায়। আজ প্রায় এক শতাব্দী পর জীবনানন্দের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ও শ্রেষ্ঠ কবিতা হয়ে ওঠে ‘ক্যাম্পে’। কী আছে ৯৫ পঙ্ক্তির কবিতাটিতে?
৩.
দখিনা বাতাস। আকাশে চাঁদের আলো। সারারাত ঘাইহরিণীর ডাক শুনে, কবির প্রশ্ন, কাহারে সে ডাকে?
উত্তর নিজেই দেন কবি। শিকারিরা বনে আসছে। কোথাও হরিণ আজ হইতেছে শিকার এই বসন্তের রাতে।
ঘুম আসছে না কবির।
চৈত্রের বাতাস। জ্যোৎস্নার শরীরের স্বাদ। আহা। কে পারে এমন দৃশ্যকল্প ভাবতে। জ্যোৎস্নার শরীর, ভাবুন একবার। বনের গভীরে যেখানে জ্যোৎস্না নাই, সেইখান থেকে পুরুষ হরিণ শব্দ শুনিতেছে এবং সেই ডাক শুনে আসতে শুরু করেছে সুন্দরী গাছের নিচে জ্যোৎস্নায়।
কেন আসছে তারা?
তাদের প্রেমের সময় আসিয়াছে। প্রেমের টানে হরিণীর কাছে আসিতেছে হরিণেরা। কবির ভাষায়; পিপাসার সান্ত্বনায়—আঘ্রাণে—আস্বাদে। ‘পিপাসার সান্ত্বনা’! উপমায় কবিতা। আর উপমার সম্রাট হলো জীবনানন্দ।
অ-জ্যোৎস্না থেকে জ্যোৎস্নার দিকে আগমন প্রেমিক মৃগদের। ঠিক এমন সময় নতুন ধারণার আবির্ভাব ঘটান কবি। হৃদয়ের বোন।
‘তাহাদের হৃদয়ের বোন বনের আড়াল থেকে তাদের ডাকিতেছে জ্যোৎস্নায়।’
প্রেমের নতুন ভাষ্য তৈরি হয়। নতুন স্বরূপ দেখতে পাই। হৃদয়ের বোনের প্রেম। যদিও এই চিত্রকল্পের পেছনে শেলির ‘soul’s sisters’-এর স্মৃতি কাজ করেছে বলেও জীবনানন্দ নিজেই ইঙ্গিত করেছিলেন।
বনের ভিতরে আজ কোনো বাঘের চিহ্ন পাওয়া যাচ্ছে না। শুধু প্রেমের আবহ দেখা যাচ্ছে। বাঘ হরিণকে খেয়ে ফেলবে এমন কোনো পরিস্থিতিও নাই কোনোদিকে। তাই তাদের বুকে কোনো স্পষ্ট ভয় নাই। সন্দেহের আবছায়া নাই।
তাহলে কি আছে?
পিপাসা আছে। রোমহর্ষ আছে। হরিণীর এমন রূপ দেখে চিতা বাঘের বুকেও হয়তো বিস্ময় জেগেছে।
এরপর কবি পুরো রাতের আবহ তৈরি করেছেন পাঁচটি শব্দে।
লালসা-আকাঙ্ক্ষা-সাধ-প্রেম-স্বপ্ন। এইখানেই কবির নকটার্ন। একদম অভিনব নতুন আরেক শব্দ—নকটার্ন।
গভীর রাতের অনুভূতি, একাকিত্ব, স্মৃতি ও নীরবতার আবহ তৈরি করতেই যেন কবিতায় এসে হাজির হয় ফরাসি শব্দ, ইংরেজিতেও ব্যবহৃত ‘নকটার্ন’।
৪.
আবারও কবি মনে করিয়ে দেন হরিণেরা আসছে হরিণীর কাছে। অ-জ্যোৎস্না থেকে জ্যোৎস্নায় সুন্দরী গাছের নিচে। এই আসাকে কবি তুলনা করলেন—
‘মানুষ যেমন করে আসে তার নোনা মেয়েমানুষের কাছে।’
‘নোনা মেয়েমানুষ’। উপমায় কবিতা হয়ে ওঠে অনন্য। ‘নোনা মেয়েমানুষ’—মাত্র দুটি শব্দে জীবনানন্দ প্রেমকে শরীর, আকাঙ্ক্ষা ও বাস্তবতার মাটিতে নামিয়ে আনেন।
অনেক পায়ের শব্দ শোনা যায়। কবির আর ঘুম আসে না। বন্দুকের শব্দ শুনে, তারপর বন্দুকের শব্দ শুনে। এইখানে পড়ে থেকে থেকে একা কবির মনে অবসাদের জন্ম নিয়েছে, বন্দুকের শব্দ আর হরিণীর ডাক শুনে।
এরপরের গল্প নৃশংসতার।
৫.
ভালোবাসার উপরে প্রেম, গভীরে নৃশংস রক্তাক্ত দুটি পাখি— মুখোমুখি। আকাঙ্ক্ষা আর নৃশংসতা। প্রেমের আরেক রূপ দেখা দেয় নৃশংসতায়। কিন্তু তা প্রতারণার নয়!
কাল সকালে মৃগীরা আসবে। আলোয় দেখবে, তাদের প্রেমিকেরা তার পাশে লাশ হয়ে পড়ে আছে। শিকারি মানুষ তাদের হত্যা করেছে। গভীর প্রশ্ন তুলে নিজেই এখানে উত্তর দিয়েছেন কবি। কেন এমন করে ডেকে এনে হত্যা করল পুরুষ হরিণকে। হরিণীরা কেন এই ’জঘন্য’ কাজটি করল!
কবি উত্তর দিচ্ছেন। ‘মানুষেরা শিখায়ে দিয়েছে তাকে এই সব।’
এই নৃশংসতার সহযোগী যে ঘাইহরিণী, তাকে মানুষ শিখিয়ে দিয়েছে! তাদের প্রেমিকরা আজ মৃত। মানুষই তাদের শিকার করেছে। সকালে তাই মৃত হয়ে পড়ে আছে তারা। শিখিয়ে দেওয়া ঘাইহরিণীর ‘মিথ্যে প্রেমে’র আহ্বানে সাড়া দিয়ে নিজের জীবনকে বিসর্জন দিতে হলো প্রেমিক মৃগদের।
তারা কেউই নিহত হতে আসে নাই, এসেছিল ‘হৃদয়ের বোনে’র প্রেমের আহ্বানে সাড়া দিতে। প্রেমের পরিণতি হয়েছে ‘মৃত্যু’। মৃত পুরুষ হরিণেরা এখন কারও টেবিলে সুস্বাদু মাংস হয়ে পরিবেশিত হবে।
শুধু পুরুষ হরিণ, ঘাইহরিণী, শিকারি মানুষ ও মাংস উপভোগকারী মানুষের গল্প নয় জীবনানন্দের ‘ক্যাম্পে’ কবিতা।
এই চাইতে বেশি কিছু, বিস্ময়ের কিছু। আরো কয়েকটি ভিন্ন স্তরে তার স্বাদ পাওয়া যায়।
৬.
এরপর নৃশংসতা আর ট্র্যাজেডি নিজের জীবনের সঙ্গে মেলান কবি।
খাবার ডিশে হরিণের মাংস। এই হরিণের কথা ভেবে ভেবে ব্যথা পেতে চান না কবি। কেন ব্যথা পাবেন? তিনিও কি এই মৃত হরিণের মতো নন! ‘তাদের মতন নই আমিও কি!’
কোন এক বসন্তের রাতে, কোন এক বিস্ময়ের রাতে তাকেও ডেকেছিল ঘাইহরিণীর মতো কেউ একজন। পুরুষ হরিণের মতো তিনিও ছুটে এসেছিলেন। এরপর তিনিও রক্তাক্ত, নিহত হয়েছিলেন ভিতরে ভিতরে।
শারীরিকভাবে হয়তো তিনি বেঁচে আছেন কিন্তু মননে তারও মৃত্যু ঘটেছিল সেই দিন, সেই রাতে।
কবি এক গুরুতর প্রশ্ন করেছেন এরপর। ঘাইহরিণীকে প্রেমের ফাঁদ পাতার কৌশল তো মানুষ শিখিয়ে দিয়েছিল! ঘাইহরিণী প্রেমের মিথ্যে আহ্বান করেছিল মানুষের ইশারায়। পুরুষ হরিণ তো তা বুঝতে পারেনি।
পিপাসার সান্ত্বনা পেতে হৃদয়ের বোনের কাছে এসেই নিঃশেষ হয়েছেন। আত্মাহুতি দিয়েছেন।
কবি এবার তার প্রেমিকাকে প্রশ্ন করছেন। তাকে কে শিখিয়ে দিয়েছিল এমন ডাক দেওয়ার? তিনি কার ইশারায় এই আহ্বান জানিয়েছিলেন? কিছু পতঙ্গ যেমন আলো দেখলে ছুটে যায়, আগুনের প্রেমে পড়ে, ঝাঁপ দেয়, নিঃশেষ হয়। গভীর প্রেম কি এমনই!
করুণ প্রেমের পরিণতি নিঃশেষ হওয়া, মিলিয়ে যাওয়া, নিহত হওয়া। মৃত্যু যার অনিবার্য পরিণতি। হয়তো! হয়তো নয়!
কবিতা শেষ পর্বে এসে মানুষ, কীট কিংবা পশু সকলের এক করুণ নিয়তির সমাধানে পৌঁছেছেন কবি।
দোনলা বন্দুক দিয়ে যিনি শিকার করেন, যিনি হরিণের মাংসে তৃপ্ত হন, তারাও আসলে প্রেমিকদের মতো, ঘাইহরিণীদের মতো—ক্যাম্পের বিছানায় শুয়ে তাদের হৃদয়ও শুকাইতেছে।
অথবা তারা যা করছেন তা হয়তো কেউ তাদের করাচ্ছেন। তারাও হয়তো ঘাইহরিণীর মতো ব্যবহার হচ্ছেন। ‘এই ব্যথা—এই প্রেম সব দিকে রয়ে গেছে।’
‘এই বসন্তের জ্যোৎস্নায় ওই মৃত মৃগদের মতো আমরা সবাই।’
৭.
কবিতাটির তিনটি স্তর স্পষ্ট।
বনের পাশের ক্যাম্প ফেলে হরিণ শিকারের ফাঁদ। এটা প্রথম স্তর, এমন সাধারণ স্তরেই কবিতাটি পাঠ করা যায়। দ্বিতীয় স্তরে এক প্রেমিকের প্রতারিত হওয়ার গল্প পাওয়া যায়। তৃতীয় স্তরেই কবিতার মৌলিক সৌন্দর্য উদ্ভাসিত হয়ে ওঠে।
মানব-মানবীর প্রেম থেকে বের হয়ে প্রেমকে যদি আরও বিশ্বায়িত করে দেখি, তাহলেই কবিতাটি স্পষ্ট হয়ে ওঠে। মানুষের যত প্রেম আছে। দেশপ্রেম, শিল্পপ্রেম, সন্তানপ্রেমসহ আরও অনন্ত অসংখ্য প্রেম।
এই সকল প্রেমের টানে কেন মানুষ এগিয়ে চলে? এসব প্রেমের ঘাইহরিণী কে? কিসের আহ্বানে মানুষ ছুটে চলে, প্রাণীরা ছুটে চলে? তার শেষ পরিণতি কি জীবন উৎসর্গ নয়?
ক্ষুদিরাম কোন ঘাইহরিণীর ডাক শুনেছিলেন! ভগৎ সিং, সূর্যসেন, প্রীতিলতারা কিসের আহ্বানে জীবনকে তুচ্ছ মনে করেছিল। রফিক, জব্বার কার ইশারায় বাহান্নর মিছিলের সামনে গিয়ে বুক পেতেছিল। মতিউর কেন প্লেন নিয়ে ছুটতে গিয়ে জীবন উৎসর্গ করেছিলেন?
কিংবা হাল আমলে কোন ঘাইহরিণীর ডাক শুনে দু হাত প্রসারিত করে বন্দুকের সামনে সিনা টান করে দাঁড়িয়েছিল আবু সাঈদ।
প্রেম। দেশপ্রেম। সত্য ও ন্যায়ের প্রেম। কোন এক ডাক শুনেই তো মানুষ নেমে পড়ে, নাড়িয়ে দেয়। তারপর মিলিয়ে যায়।
সক্রেটিস যেমন খুব সহজেই পালিয়ে যেতে পারতেন। তবুও বিষের পেয়ালা তিনি নিশ্চিন্তে গ্রহণ করলেন কেন? কোন সুদূরের ঘাইহরিণীর প্রেমে তিনি ছুটে যাচ্ছিলেন? কার আহ্বানে? সত্যের নাকি সুন্দরের!
জীবনানন্দ কিসের আকর্ষণে শত শত কবিতা ও লেখা ট্রাঙ্কের ভিতরে বয়ে নিয়ে বেড়িয়েছেন বরিশাল হতে কলকাতা? কোন এক অমোঘ ঘাইহরিণীর ডাকে কি তিনি সাড়া দিয়েছিলেন?
সবাই কি এমন ঘাইহরিণীর ডাক শুনতে পায়? এ এক জটিল প্রশ্ন। প্রতিটি মানুষের ছুটে চলার অনুপ্রেরণার নামই কি সেই ঘাইহরিণীর প্রেম।
প্রেমের পরিণতি যদি নিঃস্ব হওয়া হয়, অসহায় হওয়া হয় তবেই হয়তো তাকে সফল প্রেম বলা যায়। যেখানে আছে মানুষের অসহায় আত্মসমর্পণ।
সকলে হয়তো ঘাইহরিণীর ডাক শুনতে পেলেও সাড়া দেয় না, ঝাঁপিয়ে পড়ে না। আত্মসমর্পণকে রুখে দিয়ে কাটিয়ে দেয় প্রেমহীন জীবন। কে জানে!
মাত্র ৫৫ বছরের জীবন শেষে জীবনানন্দ কার আহ্বান উপেক্ষা করতে পারলেন না? কোন ঘাইহরিণীর ডাকে তিনি মৃত মৃগদের মতো পড়ে রইলেন ট্রামলাইনের ওপর? আমরা জানি না—নাকি জানি!
৮.
আমরা সবাই ওই মৃত মৃগদের মতো। আত্মাহুতি আমাদের নিয়তি। আমরা আহ্বানে ছুটি। শিল্পের, প্রেমের, অপ্রেমের, সত্যের, সাহসের অথবা স্রষ্টার।
সৃষ্টির সর্বত্র এই নিঃশব্দ নিঃসঙ্গতা আমাদের গ্রাস করে। আমরা নিঃস্ব হই, নিঃশেষ হই। ফেরার আর কোনো পথ থাকে না। একসময় আমরা মিলিয়ে যাই। অস্তিত্বের অতল অন্ধকারে অথবা আলোয়।

সেলিম পারভেজ
লেখক, সাংবাদিক ও চলচ্চিত্রকর্মী

