শিল্পিত পারু’র কবিতা
মৃত্যু ও সন্তানেরা
মরেই তো যাবো কোন এক শুক্কুরবার সকালে
তারপর কি?
আমার সন্তান। আহা আমার কন্যা! আমার পুত্র!
কী কষ্টই না পাবে।
আমারই মতোই। ত্রিশ বছর চেপে ধরে একদিন কষ্টকেই মেরে ফেলবে নিশ্চয়ই।
কেউ জানবে না।
তবু কি মারা যাবে গোপন দীর্ঘশ্বাস!
কত লড়াই কত আকাশ কত মেঘ
বৃষ্টি কাদায় ঘষে ঘষে জমিন চাষ
কেউ মরে গেলে কার কি আসে যায়!
যা হারায় সব সন্তানের
যা কিছু পুড়ে ঐ নিষ্পলক চোখ আর
ব্যথার পাথর নিয়ে আমৃত্যু বেড়ে ওঠা কন্যার
কেউ চলে গেলে পুরোপুরি
তবুও বেড়ে ওঠে সন্তানেরা;
পৃথিবীতে এর চাইতে বিষ্ময়ের আর কি আছে!
মরণে কোন ভয় নাই নিজের
শুধু গোপন দীর্ঘশ্বাসে বাড়ে কন্যার শোক
পুরো এক জীবন শোক আর বিষন্নতায়
কিভাবে কাটাবে আমার সন্তান!
যতক্ষন না আমার সন্তান
শোককে হাতের মুঠোয় মাড়িয়ে দিতে পারে।
ততক্ষন মৃত্যুকে তাই ভালোবাসিনা।
এরপর মরে যাবো একদিন কোন শুক্কুরবার সকালে।
এই শোক বুকপিঠে নিয়ে আমার পুত্র জীবনের মানে খুঁজবে।
কোন এক বিশুদবার সকালে তার সন্তানের শোক চিন্তায় মৃত্যুকে দেবে ঠেলে
শক্ত হলে হাতের মুঠো শোক নিয়ে খেলবে যখন তার পুত্র
কোন আরেক শুক্কুরবার সকালে আমার সন্তান ফিরবে আমার কাছে।
ঘুচে যাবে আমাদের দুজনের হাহাকার।
শোক তখন খেলা করবে নতুন কোন সন্তানের বুকে।
শিল্পিত পারু
ফেব্রুয়ারি,2025

