‘নৈশব্দের ভোর’


শিল্পিত পারু নৈশব্দের ভোর

শিল্পিত পারু’র কবিতা


নৈশব্দের ভোর

                  

হঠাৎ কোন একদিন নৈশব্দের ভোরে ঘুম ভেঙ্গে গেলে

দেখবে পাশে কেউ নেই তোমার;

হালকা সাদা আলো চোখের কোনায় চিকচিক করবে

বুঝবে পৃথিবীতে কেউ বাসেনা ভালো তোমাকে ;

এই ঘোর লাগা ভোরে তুমি শূন্যে উড়ে যাবে

হঠাৎ মনে আঁছড়িয়ে পড়বে, কেন বেঁচে ছিলে কাল ! 

প্রয়োজন? এত প্রয়োজনে প্রয়োজনে বেঁচে থেকে কখন মরে গেছে মন !!

হালকা হাওয়ায় তবু উড়ে যায় মনের চাদর

শরীর চেয়েছিলে বুঝি?  

এই ভোরে হিমেল হাওয়ায় কেঁপে ওঠে শরীরের মন !

মরে যায় মানুষ থাকলে অপেক্ষায়

বেঁচে ওঠে শুধু ভালোবাসতে বাসতে; এই ভেবে

কি নিদারুণ এক শূন্য বিরান মাঠে এক চিলতে আলোর করুণ সুরে,

বেজে ওঠে তোমার মুখ ;

আমরা প্রয়োজনে প্রয়োজনে মৃত হই 

অপ্রয়োজন আর অদরকারে বেঁচে উঠি; তবু

এই ভোর, এই ঝিম ধরা সকাল কেন আসে?

কেন আমরা তবুও চাই, কেউ চেয়ে থাক ! 

ভাবলেই ঘরে ঢুকুক তার নরম চিকন আলো;

কেন চাই? 

কারণে যাই ঘটুক, অকারণে জড়িয়ে থাক এই জীবন শ্মশান !

তবু ভোর হোক, পেঁচার ডাক ক্লান্ত হোক

হলুদ রোদ ছড়াক শরীরে শরীরে, 

আমরা বেঁচে উঠি আবার আগামীর মুখ চেয়ে, 

আগামীর চোখ, স্বপ্ন আর মন ভালোবেসে, এই ভেবে ;

পেলে মরে যায় মানুষের কারণ ভালোবাসা

না পেলে বেঁচে থাকে অকারণ ভালোবাসা !!


শিল্পিত পারু

প্রগতিস্মরনী


আরো পড়ুন :

‘আত্নজের অহংকার’ কবিতা

শঙ্খ ঘোষের কবিতা

Leave a Reply

Your email address will not be published.