‘ কেন জেগে থাকে চাঁদ ‘


শিল্পিত পারু’র কবিতা


কেন জেগে থাকে চাঁদ

আমার মাথার পরে এখনও জেগে থাকে চাঁদ
জোনাকিরা নিভে গেলে পরে জানিনা কখন
ঘুঘু আর কলমিলতা ঘুরে ঘুরে আসে ;
হৃদয়ের গহীণ গোপনে পেয়েছি এক টান তার সুরে
যখন হেঁটেছি ভয়ে কোন শহরের আলপথে একা
কোন দিন বুজিনাই আমি
কখন উঠেছে কেঁপে আলো আর আঁধারের বাতি ;
হঠাৎ ভীড়ের ভিতর উড়ে এসে মৌমাছি
কোন দিন ব্যথা দেয় নাই জানি;
তবু আমার মগজে ঝুলে থাকে ছাই রঙা শাড়ি!
উড়ে যাওয়া চিল তবু
দুর থেকে চেয়ে থাকে ধানের শিশির
এই ফুল, এই ঝিঙে, শিমের মাচায় ঝুলে থাকে লাউের মুখ
কচি তুলতুলে আমার ছোট মেয়ের নরম গালের মতন ;
এইসব গান ডুব সাঁতারের মতো   
জড়িয়েছিল গায়!
তবু কি ফিরে যাবো আমি এইসব নাড়ী আর বেদনার পাড়ে?
কেন তবু ক্ষয়ে যাওয়া হাড়ে কেঁপে ওঠে ভুলে যাওয়া সুর
কি করে এসে বসে হুলুদ টিয়া আর মহিষের শিং!
এখন রাতের হিমে জেগে ওঠা চর ভোরের কুয়াশায় হয় নীল ;
কালো পেঁচার মতো তবু সে পেঁচা নয়
ঘুমের গহীণ তলে কদমের ডালে বাবুই এর ঝোলা আশ্রয়;
এখনও পাখি আছে এখনও তারা মরে নিয়মে সঠিক;
আমি ফিরলে প্রাণের গুহায় এখনও গভীরে খুঁজে পাই
লাল গাভীটির পাশে ধীর লয়ে হাঁটে কচি মেয়েটি মুখ ;
এইসব ধান শিশির আর কদম গাছের ডালে
বেঁধে আছে বোধ আর অমোঘ  অসুখ ;
ব্যর্থ গান আর নিছক ঝলকানি আলোয়
বেড়ে ওঠা ইটের চাপের মাঝে
বেজে ওঠে তাহাদের সুর ;
আমি শুনি, আমি দেখি, আমি টের পাই
আমি হাঁটি আর বোধের ভিতর নেমে আসে ফুল;
এইসব আলো ব্যথা আর  ফুলকি গানে
ছোট দুটি বিষ্ময় চোখ ছিল কি নিদারুণ খোঁজে
বামনের হাত গলে নেমে আসা আগুনের ছুরি
সার্কাসের ধার ঘেষে নেমে আসে কুয়াশার ঘোর ;
তারপর বাড়ি ফিরে পাহাড় স্বপ্ন বুকে দিয়েছিলাম ডুব।
এই মাঘে সেই শীত জেগে উঠে ফের ;
আমি তো ফিরিনাই ঘরে
এখনও হিমধরা রেললাইন ধরে
একা একা নেঁকড়ের মতো গেয়েই চলেছি এক অমোঘের গান ;
কত ক্ষত জমে পাঁজরের বামে তার চেয়ে ঢের বেশি গাছ
মুখ পাখি আর গানে ভরে আছে বধির আকাশ!
আমি জানি হবে না ফেরা সেই ঘরে আর তবু ;
কেন জেগে থাকে চাঁদ
কুয়াশার নীল ধোঁয়া কেন তবু ঘিরে থাকে মগজের ঘের!!

.

শিল্পিত পারু

জানুয়ারি/ বাড্ডা/২০২১


আরো কবিতা পড়ুন : পিতার সাইকেল

One thought on “‘ কেন জেগে থাকে চাঁদ ‘

Leave a Reply

Your email address will not be published.