চালচিত্র: মৃনাল সেন ও অঞ্জন দত্তের সিনেমা


 । পারভেজ সেলিম


অন্ধকার কলকাতা। রাত ১২.৪০। বাস ট্রাম কিছুই নেই। ট্যাক্সিতে যাবার পয়সা না থাকা যুবক ব্যাকগ্রাউন্ডে কথা বলছে। বাড়ি ফিরবে কেমন করে এই তার দু:চিন্তা। একজন পরিপাটি কোট টাই পরা অপরিচিত ভদ্রলোক এমন সময় এগিয়ে এলেন। তিনি ভদ্র, বনেদী, সভ্য, মার্জিত। 

ভদ্রলোক অনেকটা জোর করে তাকে  বাড়িতে নিয়ে গেলেন। সারারাত থেকে ভোরের প্রথম ট্রামে যেন চলে যেতে পারেন।

ভদ্রলোক সজ্জন কিন্তু তার সাথে থাকার ঘরের কোন মিল নেই। পুরাতন জরাজীর্ন ঘর যেকোন সময় ভেঙ্গে পড়তে পারে।

দেখতে বড়লোক মানুষটা কোট টাই খোলার পর ছেঁড়া গেঞ্জি বেরিয়ে আসলো। উপরে দেখতে বড়লোক কিন্তু ভিতরে আসলে গরীব। 

পোশাক খোলার পর এতক্ষনের বনেদি মানুষটা মুহুর্তেই গরীব হয়ে গেল।

সিনেমার নায়কের লেখা এই গল্পটি প্রকাশ হয়েছে লিটল ম্যাগাজিনে। একজন বড় সম্পাদককে পড়তে দিয়েছেন যাতে তার একটা চাকরি জোটে। 

মৃনাল সেনের ‘চালচিত্র’ সিনেমা শুরু এভাবেই। ১৯৮১ সালে মুক্তি পায় সিনেমাটি।

মৃনাল সেন (১৪ মে, ১৯২৩- ৩০ ডিসেম্বর, ১৯১৮)

মানুষের সাফল্য কি সমষ্টিগত নাকি ব্যক্তিগত? কমিউনিজমের এই মৌলিক ধারণার বোঝাপড়া আছে সিনেমায়। শুধু গল্পের জন্য যারা সিনেমা দেখেন তারা খুব বেশি আনন্দ পাবেন সিনেমাটি দেখে এমনটা নয়। তবে যেকোন ঘটনার পিছনের দৃষ্টিভঙ্গিগুলো কিভাবে সরাসরি মানুষের রাজনৈতিক চেতনার সাথে যুক্ত তার দারুণ সব নমুনা পাওয়া যায় সিনেমাজুড়ে।

একটা পুরাতন বাড়ি। যেন কলকাতার রুপক হিসেবে ব্যবহার করছেন পরিচালক। যেখানে ১১ টা পরিবার একসাথে থাকে। গল্পের নায়ক অঞ্জন দত্ত পত্রিকায় লিখবার জন্য গল্প খুঁজছেন। বাড়িতে, রাস্তায় এবং তার চারপাশে। এরমধ্যে দিয়েই মৃনাল তার সিনেমার মুল বক্তব্য স্পষ্ট  করলেন। মানুষের জীবনমান উন্নয়ন কি একক নাকি সামস্টিক প্রক্রিয়া? এই দার্শনিক প্রশ্নটির মুখোমুখি সিনেমাটি। 

বাড়ির উঠোনে যখন মা পিছলে পড়ে তখন আমরা দেখতে পাই একজন ‘ব্যক্তি মানুষ’ আহত হন। পরে এই আহত হবার ব্যথা বা অপরাধবোধ ছড়িয়ে পড়ে সবার মাঝে। কে দায়ী ? এই নিয়ে শুরু হয় দোষ দেয়ার খেলা। কিন্তু তাতে কোন সমাধান হয় না।

 আবার একজন যখন রাগ করে উঠোন পরিস্কারের কাজে লেগে পড়েন তখন বাকিরাও লেগে যান কাজে। রাগ করে হলেও উঠোনটা পরিষ্কার হয়। সামস্টিকের জয় হয়।

চুলার কয়লার ধোঁয়া যেন পাশের ধনী বাড়িতে না যায় সেজন্য গরীব পরিবারটি দরজা বন্ধ  করে গরমে সিদ্ধ হয় আর রান্না করে। ধনীর চাপিয়ে দেয়া এই কষ্টকে নায়ক জোর করে জানালা ভেঙ্গে সমাধান করতে চান। কিন্তু সেটাই কি আসল সমাধান? 

সিনেমার শেষ দৃশ্যে আমরা দেখতে পাই মায়ের জন্য গ্যাসের চুলা নিয়ে আসেন নায়ক। 

আসলে জীবনমান উন্নয়নের যে সমাধানের পথে হাঁটে মানুষ তা কি একসাথে সবার জন্য মঙ্গল জনক? এই প্রশ্নের উত্তর খোঁজার চেষ্টা পুরো সিনেমায়।

সবার জীবনই গুরুত্বপূর্ন, মান উন্নয়ন সবারই প্রয়োজন। একজনকে বাদ দিয়ে আরেকজনের উন্নয়ন মুলত কোন উন্নয়ন নয়। সমস্যা জিইয়ে রাখা। এটাই তো কমিউনিজমের বেসিক ধারণার প্রকাশ। সিনেমাটি সমাজতান্ত্রিক ধারণাকে সমুন্নত রাখে।

৯৫ বছর বেঁচে থাকলেন মৃনাল সেন। সত্যজিতের চেয়ে বয়সে ২ বছরের ছোট আর ঋত্বিক ঘটকের চেয়ে দু বছরের বড়। মাত্র করোনার আগে চলে গেলেন ২০১৮ সালে।

প্রথম সিনেমা ‘রাতভোর’ যখন বানান তখন তার বয়স ৩২ বছর। সাল ১৯৫৫। সে বছর মুক্তি পেয়েছিল সত্যজিত রায়ের বিখ্যাত সিনেমা ‘পথের পাঁচালী’।

এ বছর মৃনাল সেনের জন্মশতবার্ষিকীতে বেশ হইচৈই শুরু হয়েছে। একটি বিশেষ ঘটনাও ঘটে গেল এ বছর। যা সত্যজিৎ রায়ের জন্মশতবার্ষিকীতেও ঘটেনি।

মৃনাল সেনের জন্মশতবার্ষিকী উপলক্ষে তিনটি সিনেমা বানিয়েছেন তিনজন জাদরেল পরিচালক। সৃজিত বানিয়েছেন ‘পদাতিক’, অঞ্জন দত্ত ‘চালচিত্র এখন’ আর কৌশিক গাঙ্গুলী বানিয়েছেন ‘পালান’।

তিনটি সিনেমাই এক বিশেষ সৌন্দর্যে ভরপুর। মৃনাল সেনের একটি কাল্পনিক বায়োপিক বানিয়েছেন সৃজিত, যদিও আমি এখনও দেখিনি। তবে চঞ্চল চৌধুরীর গেটআপ দেখে মুগ্ধ হয়েছিলাম। আর ‘খারিজ’ (১৯৮২) সিনেমার একটি চরিত্র নিয়ে ‘পালান’ সিনেমা বানিয়েছেন কৌশিক গাঙ্গুলী । এ ব্যাপারটাও দারুণ হবে হয়ত।

আমি দেখতে বসলাম ‘চালচিত্র এখন’।

‘চালচিত্র এখন’ সিনেমায় মৃনাল সেনের ভুমিকায় অঞ্জন দত্ত

মৃনালের সাথে অঞ্জনের যে এক গভীর সম্পর্ক তৈরি হয়েছিল, গুরুর প্রতি শিষ্যের ভক্তির এক অনবদ্য সুন্দর প্রকাশ দেখি সিনেমাটিতে।

এমন সিনেমা আগে নির্মিত হয়েছে কিনা জানিনা। ৪৩ বছর পর সিনেমার প্রধান অভিনেতা তার প্রিয় পরিচালক বা মেন্টরকে নিয়ে সিনেমা বানালেন । অঞ্জন দত্ত নিজেই অভিনয় করলেন মৃনাল সেনের ভুমিকায়। সিনেমা বানানোর পিছনের গল্পের সাথে ২৬ বছর বয়সী নতুন এক অভিনেতা ও ৫৮ বছর বয়সী পরিচালকের নিবিড় বন্ধুত্বের বয়ান দেখতে পেলাম আমরা। দারুণ আইডিয়ার সিনেমা ‘চালচিত্র এখন’।

অঞ্জন ফেসবুকে লিখেছেন ‘আমি এখানে কোনো কাল্পনিক গল্প বলিনি। এই মানুষটার সঙ্গে আমার যা যা স্মৃতি আছে, সেটাকেই পরপর তুলে ধরেছি’।

ব্যক্তি অঞ্জন দত্তের জীবনে মৃনাল সেনের প্রভাব যে গভীর, সেটা সবসময় অকপটে স্বীকার করেন তিনি। কীভাবে এক বিভ্রান্ত তরুণকে জীবনের  আনন্দময় পথের সন্ধান দিয়েছিলেন তার বয়ান পাওয়া যায় এই সিনেমায়। 

সাথে ঘিঞ্জি, স্যাঁতস্যাতে, নোংরা ‘ঈশ্বরের বিষ্টা’ নামে খ্যাত কলকাতাকে কিভাবে ভালোবাসতে শিখিয়েছেন তার প্রকাশ আছে সিনেমার দেড়ঘন্টা জুড়ে।

অঞ্জনের সিনেমা মানে সহজ সরল ভঙ্গিতে সব জটিল কথা বলে ফেলা। অনেকটা শচীনের চার মারার মতো, দেখে মনে হয় চার মারা কত সহজ!  অঞ্জনের সিনেমা দেখলে সিনেমা বানানো সহজ মনে হয়।

 ‘চালচিত্র এখন’ সিনেমায় অঞ্জন দত্তের ভুমিকায় শাওন চক্রবর্তী

অঞ্জনের ‘চালচিত্র এখন’ দেখার পরপরই মৃনালেন ‘চালচিত্র’(১৯৮১) দেখেছি। মৃনাল কেন একশ বছর পরও জ্বলে উঠছেন তার কিছু স্বাক্ষ্য পাওয়া যায় এই সিনেমায়।

সিনেমার বিষয় নির্বাচন দেখেন! যখন নাচ গানে ভরপুর বা পারিবারিক মেলো ড্রামার জয়জয়কার সিনেমাপাড়ায়, তখন তিনি আদর্শ, কমিউনিজম আর কলকাতার বাস্তবতা নিয়ে সিনেমা বানাচ্ছেন। তার সিনেমা চলবে না, জানেন তিনি। সাধারণ দর্শক হলে গিয়ে এই সিনেমা খুব বেশি দেখবেন না সেটাও জানেন তবুও তিনি বানাতে থাকলেন। কেন? 

কারণ সত্যিকারের শিল্পীর কাজই তাই। আপন মনে গান গাওয়া। দর্শকের কথা অত চিন্তা করলে কি এই সিনেমা বানানো যেত? যেতো না। কিন্তু তিনি বানিয়েছেন।

আজ চার দশক বছর পর আমার মতো কেউ খুঁজে বের করে এই সিনেমা দেখছে এবং তার মুল্য খুঁজে পাচ্ছে। এটাই কি শিল্পের সফলতা নয়? আরও কয়েক দশক এটা চলতে থাকবে বলে আমার বিশ্বাস।

অথচ সেই সময়ের সুপারহিট সিনেমার কিন্তু কোন খবর নাই এখন, অন্তত আমার আগ্রহ নাই সেই সময়ের সুপারহিট কোন একটি মেলোড্রামা দেখার।

এজন্যই হয়ত মৃনালরা টিকে থাকেন। বাকিরা হারিয়ে যান। 

মৃনাল সেন ও অঞ্জন দত্ত

সিনেমার সফলতাকে কিভাবে মাপবেন আপনি! সেই পুরনো বিতর্ক। কিছু সময়ের জন্য যে সিনেমা প্রচুর হাইপ তুললো, অনেক দশর্ক নন্দিত হয়ে সুপারডুপার হিট হলো তাকে; নাকি দশকের পর দশক ভিন্ন ভিন্ন জেনারেশনের সিনেমার আকাশে উজ্জল হয়ে জ্বলতেই থাকে যে সিনেমা তাকে।

আমি দ্বিতীয়টাকে সফল মনে করি। আমার বিচারে তাই ‘পথের পাচালী’ সুপার ডুপার হিট সিনেমা। দর্শকের বিচারেও অনেক সিনেমাকে এখন পিছনে ফেলেছে এই সিনেমা। কারণ গত সত্তর বছরে কত মানুষই না দেখেছে সিনেমাটি। ক্লাসিক সিনেমার ধারণা তাই ফেলে দেয়া যায় না।

শিল্পের মজ্জায় তো থাকে সংকট ও তার প্রকাশের ধরণ। কলকাতায় ৭০ দশকে যখন কমিউনিজম নাকি গণতন্ত্র এই বিতর্ক তুঙ্গে তখন সমাজতন্ত্রে বিশ্বাসী মৃনাল সমাজ ও পরিবারের ছোট বড় সংকটগুলোকে রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গি দিয়ে সমাধানের পথ বাতলে দিচ্ছেন।

‘চালচিত্র’ এ (১৯৮১) নায়কের গল্প খোঁজার ছলে পরিচালক পরিবারের মধ্যে দিয়ে রাষ্ট্রের সংকটগুলোকে দূরে দাঁড়িয়ে দেখছেন। কেন সমাধান হচ্ছে না তারও যেমন প্রমাণ দিচ্ছেন, কিভাবে সমাধান হতে পারে সেটাও দেখাচ্ছেন।

এক বৃদ্ধাকে কয়লা চুরি করতে দেখার পরও মধ্যবিত্ত মানষিকতায় আবিষ্ট মা কিছুই বলতে পারেনা, কয়লাকে নিচ থেকে সরিয়ে উপরে নিয়ে আসে। নিজে আরো সতর্ক হয়,তবু চুরির প্রতিবাদ করেনা। যেন চুরির দায়  চুরি যে করছে তার নয়, যার চুরি যাচ্ছে তার। 

মধ্যবিত্তে যে সকল মানসিকতা উন্নয়নের পথে অন্তরায় তার প্রধানতম হলো অন্যায়ের প্রতিবাদ না করা। এত বছর পরও এর কোন পরিবর্তন কি হয়েছে সমাজে? চোরেরা কি প্রতিবাদহীনভাবে আজও চুরি করার সুযোগ পেয়ে যাচ্ছে না? রাষ্ট্রীয় চুরি!

উনুনের চুলার ধোঁয়া বড় লোকের বাড়িতে গেলে প্রচুর গল্ডগোল হবে তাই জানালা লাগিয়ে গরম ধোঁয়ার মধ্যে কষ্ট করে রান্না করে বৃদ্ধা মা। কোন প্রতিবাদ করেন না। মেনে নেয়, মানিয়ে নেয়। শেষে নায়ক জোরে করে জানালা খুলে মাকে যন্ত্রণা থেকে মুক্তি দিতে চায় । কিন্তু তাতে হয়ত জোর দেখানো হয় মৌলিক সমাধান হয় না।

কিংবা উঠোন পরিস্কার করার ব্যাপারটা একদম স্পষ্ট করে কমিউনিজমের ধারণাকে। একসাথে সবাই চলতে পারলে পৃথিবী সবচেয়ে ভালোভাবে বাসযোগ্য হয়ে উঠত। রাষ্ট্রে যত ময়লা আবর্জনা সবাই মিলে একসাথে ধরে পরিস্কার করা যেতে। যাতে আসলে সকলেরই উপকার হতো। যেমনটা ঐ পরিবারটি হয়েছে। উঠোন পরিস্কারের পর আর কেউ পিছলে পড়ে আঘাত পায় না।

মৃনাল সেন (১৪ মে, ১৯২৩- ৩০ ডিসেম্বর, ১৯১৮)

স্বপ্নের দৃশ্যটি কি দারুণ। সবাই নিয়মতান্ত্রিক প্রতিবাদ করতে রাস্তায় নেমে পড়েছে। পুলিশ ট্রিয়ারশেল মেরে কিছুই করতে পারছেন না। পরে পানি ছিটিয়ে ধোঁয়া নিভিয়ে দেয়া এবং প্রতিবাদি মানুষগুলোর অদৃশ্য হওয়ার মধ্যে দিয়ে স্বপ্ন ভেঙ্গে যায়।

স্বপ্নের কথা যখন সম্পাদকে জানান তখন তিনি বলে ওঠেন তুমি একজন কমিউনিষ্ট। একসাথে সবার ভালো চাওয়ার চিন্তাটাই হয়ে ওঠে কমিউনিস্ট চিন্তা। এটা সিনেমার একটা শক্তিশালী দৃশায়ন।

উৎপল দত্তকে আমি যত দেখি তত মুগ্ধ হই। এর চাইতে শক্তিমান কোন অভিনেতা কি বাঙলায় আছেন? আমি মনে হয় নিশ্চিত। নাই। এখানেও  পুঁজিবাদী পত্রিকার সম্পাদকের চরিত্রে কি সাবলিল অভিনয় তার। সব বেঁচে দাও। এমন খবর আনো যা জনগন খাবে। সবই ব্যবসা। সংবাদটাও ব্যবসা, গল্পও ব্যবসা। 

আনন্দবাজার পত্রিকার অফিসে ‘চালচিত্র’-র শুটিংয়ে মৃণাল সেন, উৎপল দত্ত ও অঞ্জন দত্ত

অঞ্জনের নিজেকে নিংড়ে নিয়ে সৃষ্টির যে জীবনবোধ তা ভালো লাগে। পুরো জীবনজুড়ে অঞ্জন তাই করেছেন। নিজেকে নিংড়ে নিয়ে জীবন উপভোগ করে চলেছেন। সিনেমায় তার প্রতিফলন ঘটেছে।

মৃনাল সেনের চরিত্রে কি সহজ স্বাভাবিক অভিনয়টাই না করে গেলেন তিনি। অভিনেতা হিসেবে অঞ্জন দত্তের সঠিক ব্যবহার খুব হয়নি কলকাতায়। তিনি আসলে একজন জাদরেল অভিনেতা। 

‘চালচিত্র এখন’ সিনেমাটির অভিনব আইডিয়াটা মানুষ অনেকদিন মনে রাখবে। গুরুর প্রতি শিষ্যের আর কি নিবেদন হতে পারে এর চাইতে সুন্দর!

শতবর্ষের মৃনাল সেনের প্রতি শ্রদ্ধা।


পারভেজ সেলিম

 লেখক, সাংবাদিক ও চলচ্চিত্রকর্মী


৩৪ thoughts on “চালচিত্র: মৃনাল সেন ও অঞ্জন দত্তের সিনেমা

  1. Your writing was remarkably illuminating! The breadth of information and the captivating delivery mesmerized me. The depth of research and mastery evident throughout significantly heightens the content’s excellence. The insights in the introductory and concluding parts were especially thought-provoking, sparking fresh concepts and inquiries that I hope you’ll explore in future writings. If there are additional resources for further exploration on this subject, I’d be eager to delve into them. Thank you for sharing your expertise and enhancing our understanding of this topic. The exceptional quality of this piece compelled me to comment immediately after reading. Continue the fantastic work—I’ll certainly return for more updates. Your dedication to crafting such an outstanding article is highly valued!

  2. This piece was incredibly enlightening! The level of detail and clarity in the information provided was truly captivating. The extensive research and deep expertise evident in this article are truly impressive, greatly enhancing its overall quality. The insights offered at both the beginning and end were particularly striking, sparking numerous new ideas and questions for further exploration.The way complex topics were broken down into easily understandable segments was highly engaging. The logical flow of information kept me thoroughly engaged from start to finish, making it easy to immerse myself in the subject matter. Should there be any additional resources or further reading on this topic, I would love to explore them. The knowledge shared here has significantly broadened my understanding and ignited my curiosity for more. I felt compelled to express my appreciation immediately after reading due to the exceptional quality of this article. Your dedication to crafting such outstanding content is highly appreciated, and I eagerly await future updates. Please continue with your excellent work—I will definitely be returning for more insights. Thank you for your unwavering commitment to sharing your expertise and for greatly enriching our understanding of this subject.

  3. This piece was incredibly enlightening! The level of detail and clarity in the information provided was truly captivating. The extensive research and deep expertise evident in this article are truly impressive, greatly enhancing its overall quality. The insights offered at both the beginning and end were particularly striking, sparking numerous new ideas and questions for further exploration.The way complex topics were broken down into easily understandable segments was highly engaging. The logical flow of information kept me thoroughly engaged from start to finish, making it easy to immerse myself in the subject matter. Should there be any additional resources or further reading on this topic, I would love to explore them. The knowledge shared here has significantly broadened my understanding and ignited my curiosity for more. I felt compelled to express my appreciation immediately after reading due to the exceptional quality of this article. Your dedication to crafting such outstanding content is highly appreciated, and I eagerly await future updates. Please continue with your excellent work—I will definitely be returning for more insights. Thank you for your unwavering commitment to sharing your expertise and for greatly enriching our understanding of this subject.

  4. Antalya, hem yerel halk hem de turistler için çeşitli telefon tamiri hizmetleri sunan birçok profesyonel tamir atölyesine ev sahipliği yapmaktadır. Bu hizmetler arasında telefon ekran değişimi, batarya değişimi, su hasarı onarımı ve yazılım güncellemeleri gibi geniş bir yelpaze bulunur. Antalya’daki tamir atölyeleri, genellikle hızlı ve etkili çözümler sunarak, kullanıcıların telefonlarını kısa sürede kullanıma hazır hale getirirler. Ayrıca, birçok tamir merkezi uygun fiyatlarla hizmet vererek, müşterilerin bütçelerini zorlamadan kaliteli tamir hizmeti almasını sağlar. https://attteknik.com.tr/

  5. Antalya, hem yerel halk hem de turistler için çeşitli telefon tamiri hizmetleri sunan birçok profesyonel tamir atölyesine ev sahipliği yapmaktadır. Bu hizmetler arasında telefon ekran değişimi, batarya değişimi, su hasarı onarımı ve yazılım güncellemeleri gibi geniş bir yelpaze bulunur. Antalya’daki tamir atölyeleri, genellikle hızlı ve etkili çözümler sunarak, kullanıcıların telefonlarını kısa sürede kullanıma hazır hale getirirler. Ayrıca, birçok tamir merkezi uygun fiyatlarla hizmet vererek, müşterilerin bütçelerini zorlamadan kaliteli tamir hizmeti almasını sağlar. https://attteknik.com.tr/

  6. Antalya, hem yerel halk hem de turistler için çeşitli telefon tamiri hizmetleri sunan birçok profesyonel tamir atölyesine ev sahipliği yapmaktadır. Bu hizmetler arasında telefon ekran değişimi, batarya değişimi, su hasarı onarımı ve yazılım güncellemeleri gibi geniş bir yelpaze bulunur. Antalya’daki tamir atölyeleri, genellikle hızlı ve etkili çözümler sunarak, kullanıcıların telefonlarını kısa sürede kullanıma hazır hale getirirler. Ayrıca, birçok tamir merkezi uygun fiyatlarla hizmet vererek, müşterilerin bütçelerini zorlamadan kaliteli tamir hizmeti almasını sağlar. https://attteknik.com.tr/

Leave a Reply

Your email address will not be published.

x