বন্দরনায়েক: যে পরিবারের হাতে তৈরি শ্রীলংকা

পারভেজ সেলিম

পারভেজ সেলিম ।।

শ্রীলংকার প্রধান দুটি রাজনৈতিক দল ডানপন্থি ইউনাইটেড ন্যাশনাল পার্টি আর বামপন্থি শ্রীলংকান ফ্রিডম পার্টি। এই দুটি দলই ১৯৪৮ সালের স্বাধীনতার পর ঘুরে ফিরে দেশটির ক্ষমতায় এসেছে।

১৯৫১ সালে সলোমন বন্দরনায়েক  গঠন করেন শ্রীলংকা ফ্রিডম পার্টি। ১৯৫৬ সালের নির্বাচনে জয়ী হয়ে চতুর্থ প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন। এই নির্বাচনের পরেই দেশ নতুন এক অধ্যায়ে প্রবেশ করে।

কিন্তু এক বৌদ্ধ ভিক্ষুর গুলিতে ১৯৫৯ সালে নিহত হন বন্দরনায়েক। নেতৃত্ব শুন্য হয়ে পড়ে দেশটি। এই সংকটকালে শক্তভাবে দেশের হাল ধরেন তার স্ত্রী শ্রীমভো বন্দরনায়েক।

বাবা মা এবং সন্তান তিনজনই দেশের প্রধান হয়েছেন, এমন ঘটনা পৃথিবীতে আর নেই

প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হন শ্রীমভো বন্দরনায়েক। পৃথিবীর প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী। ইউরোপ আমেরিকা কিংবা এশিয়ার অন্য কোন দেশ নয় শ্রীলংকার মানুষই প্রথম দেশের ক্ষমতা একজন নারীর হাতে তুলে দেবার সাহস করে। তিনি নেতৃত্বে ও দেশ পরিচলনায় তার স্বামীকে ছাড়িয়ে গিয়েছিলেন। শ্রীলংকাকে দক্ষিন এশিয়ার এক শক্তিশালী রাষ্ট্র হিসেবে গড়ে তোলেন। মানবউন্নয়ন সুচকে শ্রীলংকা ঈর্ষনীয় সাফল্য অর্জন করে।

বন্দরনায়েক পরিবারটি ছিল থেববাদি বৌদ্ধ। জাতিতে সিংহলী। রাষ্টভাষা হিসেবে সিংহলীকে চালু করতে চেয়েছিলেন তারাই। পরে প্রতিবাদের মুখে তালিম ভাষাকেও সরকারি ভাষা হিসেবে চালু করতে বাধ্য হয় সিলন সরকার। তামিল এবং সিংহলীর বিভেদ স্পষ্ট হতে থাকে তখন থেকে। দেশটিতে দাঙ্গাও হয় কয়েকবার।

শ্রীমভো বন্দরনায়েক : পৃথিবীর প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী

১৯৭২ সালে শ্রীমোভো বন্দরনায়েক দেশের নাম সিলন থেকে শ্রীলংকায় পরিবর্তিত করেন। লেখা হয় নতুন সংবিধান হয়। প্রজাতন্ত্র হিসেবে শুরু হয় শ্রীলংকার নতুন যাত্রা। দেশের ক্ষমতা প্রধানমন্ত্রী থেকে চলে যায় রাষ্ট্রপতির কাছে।

সলোমন ও শ্রীমভোর বড় মেয়ে চন্দ্রিকা কুমারাতুঙ্গা ক্ষমতায় আসেন ১৯৯৪ সালে। নিজে হন রাষ্ট্রপতি আর মাকে বানান প্রধানমন্ত্রী।

২০০০ সালে ৪০ বছরের রাজনৈতিক জীবন থেকে অবসর নেন শ্রীমভো। এর মাত্র দুমাস পরে মারা যান বন্দরনায়েক পরিবারের সবচেয়ে প্রভাবশালী মানুষটি।

চন্দ্রিকা কুমারাতুঙ্গা : ১৯৯৪ খেকে ২০০৫ পর্যন্ত রাষ্ট্রপতি

পৃথিবীর প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী শ্রীমভো বন্দরনায়েক ছিলেন বিনয়ী এবং দৃঢ়চেতা দেশপ্রেমিক একজন মানুষ। রাজনীতিতে এমন মানুষ খুব একটা দেখা যায়না। স্বামী সলেমোন বন্দরনায়েক ছিলেন একজন বামপন্থী ঝানু রাজনীতিবিদ। তাদের বড় মেয়ে চন্দ্রিকা কুমারাতুঙ্গাও টানা ১১ বছর নেতৃত্ব দেন দেশটির।

বাবা মা এবং সন্তান মিলে শ্রীলংকা শাসন করেন দুই যুগের বেশি সময়। পিতামাতা ও সন্তান তিনজনই দেশের প্রধানকর্তা নির্বাচিত হয়েছেন এমন ঘটনা পৃথিবীতে আর একটিও নেই। শ্রীলংকার মুল কাঠামোই গঠিত হয়েছে এই পরিবারের হাতে।

(চলবে…)

পারভেজ সেলিম

লেখক, সাংবাদিক ও চলচ্চিত্রকর্মী

আরো পড়ুন :

৭৮ thoughts on “বন্দরনায়েক: যে পরিবারের হাতে তৈরি শ্রীলংকা

  1. Pingback: situs toto
  2. Pingback: sudoku
  3. Pingback: betmw168
  4. Pingback: slot
  5. Pingback: yehyeh
  6. Pingback: pgslot
  7. Pingback: superkaya88
  8. Pingback: ks pod
  9. Pingback: Infy
  10. Pingback: goatpg
  11. Pingback: imovane
  12. Pingback: superkaya 88
  13. Pingback: superkaya88 login
  14. I think what you said was actually very logical.
    But, think about this, what if you were to create a killer headline?
    I mean, I don’t want to tell you how to run your blog, however what if
    you added something that grabbed a person’s attention? I
    mean বন্দরনায়েক: যে পরিবারের হাতে তৈরি শ্রীলংকা – আলোর দেশে is kinda boring.

    You ought to look at Yahoo’s front page and watch how they create news headlines to get
    people interested. You might try adding a video or a
    related pic or two to grab readers interested about everything’ve written. In my opinion, it would bring your posts a
    little livelier.

  15. Pingback: slotjili

Leave a Reply

Your email address will not be published.

x