সেন বংশ: ধ্রপদী যুগের শেষ ১৬০ বছরের শাসন

0Shares
পারভেজ সেলিম

পারভেজ সেলিম ।

বাংলার ইতিহাসকে চারটি ভাগে ভাগ করা যায়। প্রাচীন যুগ (১৭০০-৩০ খ্রি.পূর্ব), ধ্রুপদী যুগ (৩২০-১২৩০ খ্রি.), মধ্যযুগ (১২০৪-১৭৫৭ খ্রি.) ও  আধুনিক যুগ (১৭৫৭-বর্তমান)। 

প্রাচীনকালের যে ইতিহাস আমরা জানি তা থেকে মৌর্য যুগ পর্যন্ত সময়কে ধরা হয় প্রাচীন যুগ। যদিও এর পরের দুইশ বছরও প্রাচীন যুগের মধ্যেই পড়ে। 

এরপর শুরু হয় সাড়ে তিনশ বছরের ইতিহাস আমাদের আজানা ইতিহাসে যা অন্ধকার যুগ নামে পরিচিত। ক্লাসিক বা ধ্রুপদী বাংলার যুগ শুরু হয় ৩২০ সালে গুপ্ত সাম্রাজ্য শাসনের মধে দিয়ে। গুপ্ত যুগকে বাংলার সমৃদ্ধির শ্রেষ্ঠ যুগ হিসেবে ধরা হয়।  

গুপ্ত যুগের পর অল্প সময়ের জন্য বাংলার ক্ষমতায় বসে এক বাঙ্গালী শাসক, যার নাম শশাংক। তারপর বাংলা আবারো অন্ধকার যুগে চলে যায়। বিশৃংখল বাংলার সেই ইতিহাস খুঁজে পাওয়া যায় না।পরে পাল শাসকের ইতিহাসের সবচেয়ে বেশি সময় ৪১২ বছর ধরে শাসন করে বাংলা।এরপর ১৬০ বছরের সেন বংশের শাসনের মধ্য দিয়ে শেষ হয় ক্লাসিক বাংলার যুগ।

পাল বংশের শেষ দিকের রাজারা শক্তিতে দূর্বল হয়ে পড়ে। এর সুযোগে বাংলার বিভিন্ন অঞ্চলে ছোট ছোট স্বাধীন রাজার উদ্ভব হয়। সেনেরা কিভাবে দক্ষিণভারত থেকে বাংলায় এসে শাসন শুরু করে তার ইতিহাস অস্পষ্ট।

তবে ধারণা করা হয় সেন বংশের প্রথম ঐতিহাসিক ব্যক্তি সামন্ত সেন ১০৭০ সালে প্রথমে ছোট একটি রাজ্য দিয়ে শাসন শুরু করেছিলেন। ভারতের দক্ষিণাঞ্চলের মহীশুর কর্নাটক অঞ্চল থেকে এসেছিলেন এই যোদ্ধা মানুষটি। তারই পরবর্তী বংশধরেরা ধীরে ধীরে বাংলায় বিশাল সাম্রাজ্য প্রতিষ্ঠা করেন। যা চলে ১৬০ বছর ধরে।

সামন্ত জন্মের আগেই সেন বংশের কোন একজন বাংলা অঞ্চলে এসে বসতি গড়েছিলেন।সামন্তর ছেলে হেমন্ত সেনের সময় রাঢ়ে ক্ষমতা অধিকার করেছিল সেনবংশ। হেমন্ত সেনকেই সেন বংশের প্রতিষ্ঠাতা হিসেবে ধরা হয়।

হেমন্তর ছেলে বিজয় সেন ছিলেন সেন বংশের শ্রেষ্ঠ রাজা। বিজয় সেন ৬২ বছর শাসন করেন (১০৯৭-১১৬০)। তার প্রতিষ্ঠিত সেন বংশ একশ বছর টিকে ছিল।

বিজয় সেনের ছেলে বল্লাল সেন ১৮ বছর শাসন করেন। তিনি ছিলেন লেখক মানুষ।’দানসাগর’ কাব্যটির লেখা শেষে তিনি ‘অদ্ভুতসাগর’ নামের আরো একটি লেখায় হাত দেন।  তবে তার জীবনদশায় তা শেষ করে যেতে পারেননি।

বল্লালের ছেলে লক্ষণ সেন ক্ষমতায় বসে ১১৭৯ সালে। তখন তার বয়স ৬০ বছর। বৃদ্ধ বয়সে ক্ষমতায় বসে তিনি বাবার অসমাপ্ত ‘অদ্ভুতসাগর’ কাব্যগ্রন্থটি লিখা শেষ করেন।

সেনেরা সবাই ছিলেন শৈব ধর্মের অনুসারি। তবে শেষ রাজা লক্ষণ সেন বৈষ্ণব ধর্মে আকৃষ্ট হয়েছিলেন।

ইখতিয়ার উদ্দিন মোহাম্মদ বিন বখতিয়ার খলজি ১২০৪ সালে বাংলার উত্তরাঞ্চল দখল করেন। তখন আশি বছরের বৃদ্ধ রাজা লক্ষণ সেন বিক্রমপুরের দিকে চলে যান। তিনি সর্বশেষ শক্তিশালী সেন রাজা। মুসলমানদের বাংলা জয়ের ২৫ বছর পরও কয়েকটি  অঞ্চলে সেনরা ক্ষমতায় টিকে ছিল। 

সেন শাসনের আগে বাংলায় হিন্দু, বৌদ্ধরা শান্তিপুর্ণ সহ অবস্থান করেন। সেনরা ক্ষমতায় আসার পর এই অঞ্চলে হিন্দু ধর্মের পুনরুত্থান ঘটে।বৌদ্ধ ধর্মের প্রচার প্রসার কমতে শুরু করে। ফলে বৌদ্ধরা এই দেশ ছেড়ে নেপাল ভুটান চীনের দিকে চলে যেতে থাকে।

বখতিয়ার খলজি এবং লক্ষণ সেন মারা যান একই বছর ১২০৬ সালে।সেন বংশের শাসন পুরোপুরি বিলুপ্তি হয় ১২৩০ সালে। কারো কারো মতে এটি ১২৪৫ সাল।সেন যুগের মধ্য দিয়েই শেষ হয় বাংলার ক্লাসিক যুগ। ১২০৪ ক্ষমতায় আসেন মুসলমানেরা। শুরু হয় মধ্যযুগের শাসনকাল।

পারভেজ সেলিম
লেখক, সাংবাদিক ও চলচ্চিত্রকর্মী

আরো পড়ুন :

0Shares

১১ thoughts on “সেন বংশ: ধ্রপদী যুগের শেষ ১৬০ বছরের শাসন

  1. Throughout this great pattern of things you secure a B+ just for hard work. Where you actually confused me ended up being on the specifics. As they say, details make or break the argument.. And it could not be more correct right here. Having said that, permit me tell you what exactly did give good results. The text can be highly convincing which is probably the reason why I am taking an effort in order to opine. I do not make it a regular habit of doing that. 2nd, despite the fact that I can certainly see the leaps in logic you come up with, I am not necessarily convinced of how you seem to connect the details which inturn produce the actual final result. For right now I shall subscribe to your position but hope in the future you connect your facts better.

Leave a Reply

Your email address will not be published.

x