পাল বংশের ৪১২ বছরের বাংলা শাসন

পারভেজ সেলিম

পারভেজ সেলিম ।

বাংলার ইতিহাসকে চারটি ভাগে ভাগ করা যায়। প্রাচীন যুগ (১৭০০-৩০ খ্রি.পূর্ব), ধ্রুপদী যুগ (৩২০-১২৩০খ্রি.), মধ্যযুগ (১২০৪-১৭৫৭ খ্রি.) ও  আধুনিক যুগ (১৭৫৭-বর্তমান)। 

প্রাচীনকালের যে ইতিহাস আমরা জানি তা থেকে মৌর্য যুগ পর্যন্ত সময়কে ধরা হয় প্রাচীন যুগ। যদিও এর পরের দুইশ বছরও প্রাচীন যুগের মধ্যেই পড়ে। 

এরপর শুরু হয় সাড়ে তিনশ বছরের ইতিহাস আমাদের আজানা ইতিহাসে যা অন্ধকার যুগ নামে পরিচিত। ক্লাসিক বা ধ্রুপদী বাংলার যুগ শুরু হয় ৩২০ সালে গুপ্ত সাম্রাজ্য শাসনের মধে দিয়ে। গুপ্ত যুগকে বাংলার সমৃদ্ধির শ্রেষ্ঠ যুগ হিসেবে ধরা হয়।  

গুপ্ত যুগের পর অল্প সময়ের জন্য বাংলার ক্ষমতায় বসে এক বাঙ্গালী শাসক, যার নাম শশাংক। তারপর বাংলা আবারো অন্ধকার যুগে চলে যায়। বিশৃংখল বাংলার সেই ইতিহাস খুঁজে পাওয়া যায় না।

বাংলায় অরাজক অবস্থার সমাপ্তি ঘটে গোপাল নামক এক শক্তিশালী রাজার আগমনের মধ্যে দিয়ে। এর মধ্য দিয়ে শুরু হয় পাল বংশের শাসন। তার ক্ষমতায় আসা নিয়ে নানা কিংবদন্তি চালু আছে। আবার কারো কারো মতে গোপাল ইতিহাসের প্রথম রাজা যিনি ভোটের মাধ্যমে নির্বাচিত হয়ে ক্ষমতায় বসেছিলেন। অবশ্য এই তথ্য নিয়েও দ্বিমত পোষণ করেছেন কোন কোন ইতিহাসবিদ।

দীর্ঘ একশ বছরের অরাজকতা ও বিশৃংখল অবস্থার উন্নতি ঘটান গোপাল। ৭৫০ সালে গোপালের ক্ষমতা গ্রহণের পর বাংলা আবারো এক শক্তিশালী শাসক দ্বারা পরিচালিত হতে শুরু করে।

গোপাল কত বছর শাসন করে তার সঠিক ইতিহাস জানা যায় না। ‘আর্যমঞ্জুশ্রীমূলকল্প’ বই  থেকে জানা যায় তিনি ২৭ বছর শাসন করেছেন। ইতিহাসবিদ রমেশ চন্দ্র মজুমদারের মতে তিনি ২০-৩০ বছর, আর  বৌদ্ধ পন্ডিত লামা তারানাথের মতে গোপাল ৪৫ বছর, শাসন করেছিলেন বাঙলা। তার মৃত্যুর সময়কাল নিয়েও দ্বিমত আছে। কেউ বলে ৭৭০ কেউ বলে ৭৯৫ সালে মৃত্যুবরণ করেছিলেন বাংলার এই অসামান্য রাজা্।  

গোপালের ছেলে ধর্মপাল ও নাতি দেবপালের সময় পাল বংশের প্রভাব প্রতিপত্তি বাড়ে। ৮৫০ সালে দেবপালের মৃত্যুর পর পাল সাম্রাজ্য ভাঙ্গতে শুরু করে। 

প্রথম মহীপাল ৯৮৮ সালে এসে আবারো পাল সাম্রাজের পুন:প্রতিষ্ঠা করেন। গজনীর সুলতান মাহমুদ বারবার ভারত আক্রমনের ফলে উত্তরে রাজশক্তি গুলো দুর্বল হয়ে পড়েছিল। সেসময় পালদের শক্তিও ধীরে ধীরে কমতে শুরু করে।

পাল সম্রাটেরা ছিলেন বৌদ্ধ। আর প্রজারা ছিলেন হিন্দু। ধর্মীয় সহিষ্ণুতাকে রাষ্ট্রের নীতি হিসেবে গ্রহণ করেছিলেন রাজা ধর্মপাল। মহীপালের সময় বাংলার বিভিন্ন স্থানে দীঘি খনন ও নগর নির্মাণ হয়েছিল। পাল আমলে ধর্মীয় সহিষ্ণুতার যে ঐতিহ্য তৈরি হয়েছিল তা সেন বংশের সময় নষ্ট হয়ে যায়।

দ্বিতীয় মহিপালের (১০৭৫-১০৮০)  সময় নাটোরে জেলে সম্প্রদায়ের কিছু বাঙ্গালী বিদ্রোহ করে বসে। ১০৮০ সালের এই বিদ্রোহ ‘কৈবর্ত বিদ্রোহ’ বা ‘বরেন্দ্র বিদ্রোহ’ নামে পরিচিত। বাংলাদেশ এমনকি ভারতবর্ষের প্রথম সফল বিদ্রোহ ছিল এটি। পাল রাজারা ধর্মীয় কারনে মাছ মাংস খাওয়ার বিরোধী ছিলেন। এই নিয়ে জেলে সম্প্রদায়ের মানুষের উপর নির্যাতন করতো পাল রাজারা। ফলোশ্রুতিতে বিদ্রোহ দানা বাঁধতে শুরু করে। মাত্র দুবছরের মধ্যেই এর সমাপ্তি ঘটে। ক্ষমতায় বসেন রামপাল।

ধর্মপালের সময় পাহাড়পুরের সোমপুর বিহার নির্মাণ ছিল এক অসামান্য কাজ। শিক্ষার প্রসার ঘটেছিল পাল যুগে। অতীশ দীপঙ্কর শ্রীজ্ঞান বিশ্বের বহু দেশে শিক্ষা ও বৌদ্ধ সংস্কৃতির প্রসার ঘটিয়েছিলেন। 

রামপালই ছিলেন সবশেষ শক্তিশালী পাল রাজা যিনি ক্ষমতা ছিলেন ৪০ বছর। ১০৮২ খেকে ১১২৪ পর্যন্ত। এরপর আর চারদশক কোনরকমে টিকে ছিল পাল শাসন। প্রায় সতের পুরুষ ধরে চারশো বছরের বেশি সময় ধরে চলে এই বংশের শাসন। এত দীর্ঘ সময় ধরে এক বংশের রাজ্য শাসনের ঘটনা ইতিহাসে নাই। 

সন্ধাকর নন্দীর ‘রামচরিতম‘ কাব্য লিখা হয় সম্রাট মদনপালের সময় (১১৪৪-১১৬২)। পাল বংশের শেষ রাজা গোবিন্দ পাল ১১৬২ সালে রাজ্য হারা হন।পাল যুগ শেষে বাংলায় শুরু হয় সেন বংশের শাসন।

পারভেজ সেলিম

লেখক,সাংবাদিক ও চলচ্চিত্রকর্মী

আরো পড়ুন :

১৩ thoughts on “পাল বংশের ৪১২ বছরের বাংলা শাসন

  1. מגיל מסוים המתנות הופכות להיות כבר מורכבות יותר ובנות נוער כבר
    לא מעוניינות בהכרח בחפץ כזה או אחר ולכן יום כיף בספא לאם ולבת יכול לחזק את הקשר בין השתיים, לתרום לשתיהן
    מבחינה גופנית, רוחנית ונפשית. נראה כי עיקרון פעולות העיסוי הוא אחד והוא מוגדר בבירור – מדובר במדריך או
    בחומרה (בעזרת מכשירי עזר בדרגות מורכבות ויעילות שונות) על עור המטופל ושריריו.
    עיסוי שוודי בנתניה/השרון – העיסוי הקלאסי בנתניה/השרון המוכר והאהוב
    שרוב הגברים בוחרים בו, הן מבחינת חוסר ידיעה והכרה בעיסויים אחרים והן מבחינת הצורך שלכם בעיסוי מפנק, לכיף בלבד.
    הן במישור הנפשי והן במישור הפיזי.
    עיסוי השרירים עושה שימוש בתנועות ייחודיות
    לצורך ריכוז זרימת הדם הזורם בשריר או במרכזי שרירים.
    הרחיצה מתבצעת בכפפת “פילינג” לריכוך וטיהור העור (הורדת השכבה החיצונית של העור – האפידרמיס) ועיסוי אגרסיבי
    להמרצת זרימת הדם ושחרור השרירים.
    על פי רעיונותיהם של מרפאים תאילנדים, אנרגיה מסתובבת בגוף האדם דרך ערוצי אנרגיה רבים כי הסיבה
    העומדת בבסיס כל המחלות הפיזיות והנפשיות
    הן הפרעות המתעוררות בערוצים במהלך זרימת האנרגיה.
    בין הלקוחות אשר נעזרים בשירותיהן של נערות הליווי תוכלו למצוא אנשי עסקים אשר מרגישים בדידות במהלך נסיעות העסקים; חיילים אשר
    חוזרים מהצבא ומחפשים בחורה שיוכלו להעביר איתה ערב נחמד ולא יותר; גברים שאין להם
    הרבה ניסיון עם נשים והם מרגשים חסרי ביטחון ורוצים מישהי שיוכלו לתרגל איתה את כישורי התקשורת עם נשים;
    גברים נשואים שמרגישים בדידות בחיי הנישואין וכל אחד שמחפש לעשות משהו שונה הלילה בבת ים.

Leave a Reply

Your email address will not be published.

x