‘অল দ্যা প্রাইম মিনিস্টার’স ম্যান’: অনুসন্ধান ও আমাদের সাংবাদিকতা!

0Shares
পারভেজ সেলিম
পারভেজ সেলিম ।

আলজাজিরা টেলিভিশন গত ১ ফেব্রুয়ারি, ২০২১ ‘অল দ্যা প্রাইম মিনিস্টার’স ম্যান’ নামে একটি অসামান্য অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রচার করে। প্রচারিত হবার কয়েক ঘন্টার মধ্যে প্রতিবেদনটি আমি দেখি। রাত তখন গভীর। আমি ভালো কিছু দেখলে প্রথমে একটু ‘থ’ হয়ে যাই। এবারও তাই হয়েছি। নিজে এক দশকের বেশি সময় ধরে অনুসন্ধানমুলক টেলিভিশন অনুষ্ঠান নির্মাণের সাথে জড়িত।ক্যারিয়ারের পুরোটাই এর পিছনে ব্যয় করেছি। বাংলাদেশকে নিয়ে এমন সুনির্মিত টেলিভিশন অনুসন্ধান আমি আর দেখিনি। এটি আমার দেখা ‘বাংলাদেশকে নিয়ে’ শ্রেষ্ঠ টেলিভিশন অনুসন্ধানী প্রতিবেদন, যদিও এটি নেতিবাচক।

আলজাজিরা একটি কাতার ভিত্তিক টেলিভিশন চ্যানেল

সত্য বড় কঠিন :

আমরাও তো প্রতিদিন নানা বিষয় নিয়ে অনুসন্ধানী প্রতিবেদন তৈরি করি। সিনেমা বানানোর মতোই একটা টিম ওয়ার্ক হিসেবে বিবেচনা করি এসব বড় প্রতিবেদনকে। তবে এটি সিনেমা নয়, সাংবাদিকতা। নির্মাণ কৌশল ভিন্ন হতে পারে কিন্তু মুল ক্রেতা দর্শক। তাদের আকৃষ্ট করাই মুল লক্ষ্য। সিনেমা হয় গল্প দিয়ে আর সাংবাদিকতা হয় তথ্য-প্রমাণ দিয়ে। গ্যাব্রিয়াল মার্কেজের মতে ‘সাংবাদিকতাও একটি শিল্প’। এই নিয়ে বির্তক চলমান এবং সেটাই সুস্থতার লক্ষণ।

সে যাই হোক, কবে আমরা এমন প্রতিবেদন তৈরি করতে পারবো, তা ভেবে মনে মনে আবসোস হলো, কিছুটা হিংসেও হল। সাথে আমরা যে মাধ্যমে কাজ করি তার ক্ষমতার এমন বহি:প্রকাশ দেখে ভিতরে ভিতরে খুব গর্বও অনুভূত হল। সাথে সাথেই আমি আমার টিমের সদস্যদের সাথে শেয়ার করলাম প্রতিবেদনটি দেখার জন্য। দিনের আলো যত গড়াতে থাকলো তত এর রুপ-রস-গন্ধ নানা আঙ্গিকে ছড়িয়ে পড়তে লাগলো। 

সেসময়ের সেনাপ্রধান জেনারেল আজিজ

কঠিনেরে ভালোবাসিলাম:

দেশের সেসময়ের সেনাপ্রধান জেনারেল আজিজ ও তার খুনি পলাতক আসামী ভাইয়েরা এই অনুসন্ধানের কেন্দ্রবিন্দুতে। নানা তথ্য উপাত্ত দিয়ে সেনাপ্রধানের দূর্নীতি ও ক্ষমতার অপব্যবহার প্রমাণের চেষ্টা করেছে আলজাজিরার অনুসন্ধানী দল। কিভাবে সেনাপ্রধান নিজের প্রভাব খাটিয়ে ও বর্তমান প্রধানমন্ত্রীর সাথে সুসম্পর্কের ইমেজ ব্যবহার করে, পলাতক খুনি ভাইদের রক্ষা করছেন এবং তাদের অপরাধমুলক কর্মকান্ডে সহায়তা করে যাচ্ছেন, সেটাই প্রতিবেদনের মুল লক্ষ্য বলে মনে হয়েছে। আরেকটি অংশে ইসরাইল থেকে গোপনে আড়িপাতার একটি প্রযুক্তি কেনার তথ্য দেয়া হয়েছে প্রতিবেদনে ।

পুরো প্রতিবেদনে কিছু অসংগতি চোখে বাধে, তবে মুল বিষয়কে তা কোনভাবেই আড়াল করে না। ক্ষমতায় থাকা অবস্থায় কোন সেনাপ্রধানকে নিয়ে এদেশে এমন কোন অনুসন্ধান কখনো হয়েছে বলে আমার জানা নাই। 

‘তিনভাইকে বাঁচাতে প্রধানমন্ত্রীর সাথে তার সুসম্পর্ককে ব্যবহার করেছেন সেনাপ্রধান’।

দেশের সংবাদ মাধ্যম যখন অনেকটা অনুগত সংবাদ প্রচার করছে, তখনই সরকার বিব্রত হতে পারে এমন একটি অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রচার হলো বিদেশী সংবাদ মাধ্যমে। দেশের মধ্যবিত্ত ও উচ্চমধ্যবিত্ত শ্রেনীর মধ্যে এই নিয়ে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়। 

তবে নিম্নবিত্ত শ্রেনীর মধ্যে এর তেমন প্রতিক্রিয়া দেখা যায়নি। ধারণা করা যায় করোনায় জীবন জীবিকা নিয়ে তারা এতটাই দু:চিন্তায় ছিলেন যে দেশের এসকল দূর্নীতি নিয়ে বিচলিত হবার কারন তারা খুঁজে পায়নি। 

আমি রাজধানীর কয়েকজন রিকশাচালক ও নিম্ন আয়ের মানুষের সাথে কথা বলতে গিয়ে তাদের বিরক্তির কারণ হয়েছি। বিষয়টি তারা খুব বেশি জানে না এবং গুরুত্বপুর্ন বলে মনে করেননি। একজন সেনাপ্রধান তার ভাইকে বাঁচাতে কিছু অনিয়মের আশ্রয় নিয়েছে, এটা তাদের কাছে ‘স্থানীয় চেয়ারম্যানের চাল চুরি’র মত ব্যাপক আলোড়ন তুলতে ব্যর্থ হয়েছে।

সাংবাদিকদের চিৎকার :

প্রচারের পর সবচেয়ে বেশি বিচলিত হয়ে উঠলেন দেশের সাংবাদিকেরা। সেটা ইতিবাচকভাবে নয় নেতিবাচকভাবে। সবচেয়ে বেশি কথা বলা শুরু করলেন সাংবাদকর্মীরাই। অনেকেই চ্যালেঞ্জের সুরে ঘুরিয়ে প্যাঁচিয়ে বলতে থাকলেন ‘এটি কোনো অনুসন্ধানী প্রতিবেদনই হয়নি’।

দেশের টিভি চ্যানেলগুলো বিশেষ করে বিটিভি ও তিনটি বেসরকারি টিভি চ্যানেল সামর্থ্য অনুযায়ী ঘন্টায় ঘন্টায় তাদের ‘অনুসন্ধানী প্রতিবেদন’ প্রচার শুরু করলো। যাতে দেখা গেল  প্রতিবেদন তৈরিতে পিছনের কারিগরদের ব্যাপারে ‘ব্যাপক অনুসন্ধান’। প্রতিবেদনে কি বলা হয়েছে তা নিয়ে কথা বলতে খুব আগ্রহ দেখা গেল না।মুল লক্ষ্য যেন কে বলেছে তার উপর, কি বলেছে তার উপর নয়। 

অল দ্যা প্রাইম্যানিস্টার'উ ম্যান আলোরদেশে
১ ফেব্রু,২১ আলজাজিরায় প্রচারিত প্রতিবেদন

টেলিভিশন দেখতে বসে দেশের সাধারন মানুষ প্রথমে হোঁচট খেলো। তার দেখতে থাকলো, আলজাজিরা আগে কি কি অন্যায় করেছে? কে এই সামী? ডেডিড বার্গম্যান ও তাসনিম খলিল কেন এসব করছে তা নিয়ে নানা প্রতিবেদন। যে দর্শক তখনও আলজাজিরার মুল প্রতিবেদনটি দেখেননি তাদের বুঝতে খুব কষ্ট হল, সমস্যাটি কি? কেন টেলিভিশনগুলো এসব কথা বলছে। কারন তারা প্রতিবেদনটির বিষয় নিয়ে কোন কথা বলছে না। তার ভিতর কি আছে সেটা নিয়ে কোন তথ্য না দিয়ে শুধু  আলজাজিরা ও প্রতিবেদেন তৈরিতে যারা জড়িত তাদের বিরুদ্ধে বিষোদগার করে চলেছে। 

সাধারন মানুষের কাছে এই প্রতিবেদনটির খবর পৌছায় দেয় দেশীয় টিভি চ্যানেলগুলো, আলজাজিরা নয়। এরপর দর্শক ইউটিউব ও অন্যান্য মাধ্যমে গিয়ে দেখতে শুরু করে আসল প্রতিবেদনটি। একবছর পর শুধু আলজাজিরার ইউটিউবে রিপোর্টটি ইংরেজিতে ৮৩ লক্ষ আর বাংলায় ৪৩ লক্ষ মানুষ দেখেছে বলে তথ্য পাওয়া যাচ্ছে ।

এসময়ের সাংবাদিকতা :

দেশের ৪০ টি টিভি চ্যানেল, অসংখ্য পত্রিকা ও অনলাইন পোর্টাল আছে। গত ৫০ বছর ধরে কতটি এমন অনুসন্ধান প্রকাশ করেছে তা নিয়ে বিস্তর আলোচনা হতে পারে, কিন্তু তাতে বেশি লাভ হবে না।কারন এর সংখ্যা নিহাতই কম। 

আলজাজিরার রিপোর্টটিকে খুবই দুর্বল একটি প্রতিবেদন হিসেবে প্রমাণের চেষ্টায়, সাংবাদিক নাইমুল ইসলাম খান, ইসতিয়াক রেজা ও একাত্তরের ফারজানা রুপা সবচেয়ে এগিয়ে ছিল মনে হয়েছে। তাদের কথার মুল অংশটাই তারা ব্যয় করেছে অনুসন্ধানের ভুলক্রুটি ধরার জন্য। প্রতিবেদনটিতে যা প্রমানিত হয়েছে তা নিয়ে তাদের বাক্য ব্যয় করতে দেখা যায়নি। কিংবা কিভাবে আইনের লংঘন হলো, কাদেরকে জবাবদিহিতার আওতায় আনা উচিত তা নিয়ে কথা বলতে তারা উৎসাহ বোধ করেননি।

কয়েকজন সাংবাদিক তাদের মুল উৎসাহ ও শ্রম খরচ করছে ‘এটা কিছু হয়নি’ ধরনের প্রচারণা চালাতে। যেন দেশে প্রতিদিনই এর চাইতে ভালো মানের যে কয়েক ডজন অনুসন্ধানী রিপোর্ট প্রকাশ পায় তার কাছে এ্‌ই রির্পোট কিছুই না! নামকরা সাংবাদিকদের এমন আচরণ দেখে ব্যাপারটা স্পষ্ট হয়, এই সময়ের সাংবাদিকতা এক চরম দু:সময়ের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে।

কি হলো তারপর ?

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে একটি প্রতিবাদ প্রকাশ করা হলো। আইএসপিআর থেকে একটা প্রতিবাদ করা হল। তাতে বলা হল, এসব মিথ্যে বানোয়াট, উদ্দেশ্য প্রণোদিত রিপোর্ট। সরকার আলজাজিরার বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেবার কথা জানালো। কিছুদিন পর পুলিশ সদর দপ্তর থেকে প্রতিবাদলিপি দেয়া হল। দুর্নীতি দমন কমিশন থেকে জানানো হল এখানে কোন দূর্নীতি হয়নি। যাদের তদন্ত করার কথা, যাদের বিষয়টি খতিয়ে দেখার কথা, তারাই করছে প্রতিবাদ।

টেলিভিশনগুলোর সংগঠন ডিরেক্টরস গিল্ড প্রতিবাদ জানিয়ে বলেছে রিপোর্টটিতে ‘সাংবাদিকতার নীতি নৈতিকতা মানা হয়নি’। রিপোর্টের গভীর বিশ্লেষনের চাইতে, কারা বলল তাদের পিছনে লেগে গেল টেলিভিশন ও পত্রিকাগুলো। এর মধ্যে কিছু ব্যতিক্রম আছে যারা চুপ করে থাকলো কিছুই বলল না। 

সামি ছন্দনামের হুইসেল ব্লোয়ার

একটা উদাহরণ দেয়া যাক।

ডিবিসি একটি নিউজ করেছে ৮ ফেব্রুয়ারি তারিখে। তাদের ফেসবুক পেজে তা প্রকাশ করেছে ‘বেরিয়ে আসছে থলের বিড়াল’ কে এই সামি? রিপোর্টটি করেছে আরিফুল ইসলাম। দীর্ঘদিন সাংবাদিকতা করেন তিনি। ভালো মেধাবি সাংবাদিক হিসেবে নাম আছে তার। সেখানে সামি আগে কি কি অপরাধ করেছে তা জানানো হয়েছে। কিভাবে ক্যাডেট কলেজ থেকে বের করে দেয়া হয়েছে। তার বাবা তাকে কেন ত্যাজ্য করেছে। তাকে র‍্যাব ধরেছিল কিনা? 

আড়াই মিনিটের রিপোর্টে একটা ছবি, পাসপোর্টের কপি আর বন্ধুদের ফেসবুক স্ট্যাটাস দিয়ে পুরো প্রতিবেদন দেখানো হলো। জানানো হলো সামি নাম পাল্টিয়েছে বহুবার। প্রমাণ ছাড়া কারো বক্তব্য ছাড়া পুরোটাই নিজে বলে গেলেন রিপোর্টার।এখানে নীতি নৈতিকতার কোন তোয়াক্কা করা হলো না। সামির বক্তব্য জানার চেষ্টা করেছিলেন কিনা সেটাও জানানো হয়নি রিপোর্টে। 

কারো বিরুদ্ধে এমন একপাক্ষিক সংবাদ পরিবেশন করাতে আমার কেউই বিষ্মিত নই। কারন দেশের প্রতিটি চ্যালেন প্রায়ই এমন কাজ করেন। আমরা তাতে অভ্যস্ত। কেউ কেউ অবশ্য যার বিরুদ্ধে রিপোর্ট তার বক্তব্য নেয়ার একটু চেষ্টা করেন।কিন্তু এক্ষেত্রে তার ছিঁটেফোটাও দেখা গেল না।

একই বিষয়ে রিপোর্ট করছেন একাত্তর টিভির নাজনীন মুন্নী। তিনিও একই দোষে দুষ্ট। এরকম আরো অনেকে প্রতিবেদন করেছেন, সবার নাম মনে করতে পারছিনা। আলজাজিরার রিপোর্টিতে নীতি নৈতিকতা মানা হয়নি বলে মুখে ফেনা তোলা সাংবাদিকেরা খুব অনায়াসে নিজেদের রিপোর্টে দ্বিগুন তিনগুন নীতি নৈতিকতা বিসর্জন দিতে থাকলেন।  

সবচেয়ে মজার ব্যাপার হল রিপোর্টটি প্রকাশ করার পর অন্য কোন পেশাজীবী বা রাজনৈতিক নেতাকর্মী নয়, সবচেয়ে বেশি অস্থির হয়ে উঠেছে সাংবাদিকরাই। সবচেয়ে বেশি প্রতিবাদ, সবচেয়ে বেশি চিৎকার করেছে সাংবাদিকেরাই। অন্য কোন পেশার মানুষ কেন এতটা বিচলিত হননি তা কিন্তু খুবই চিন্তাকার্ষক।

এমনকি সরকার পক্ষের সংগঠনগুলোএ তেমন কোন প্রতিক্রিয়া দেখায়নি। সাধারন মানুষতো কোন প্রতিক্রিয়াই দেখাইনি। নিম্ন আয়ের সাধারণ মানুষের সাথে কথা তো আগেই বলেছি , তারা খুব বেশি উদ্বিগ্ন নন।

সাংবাদিক তাসনিম খলিল

কেন সাংবাদিকেরা যুদ্ধ ঘোষণা করলো এই রিপোর্টির বিরুদ্ধে। রিপোর্টিতে যদি অন্যায় বা অপরাধ হয়ে থাকে তাহলে সেই তথ্য ধরে প্রতিবেদন করাই যুক্তিযুক্তি ছিল। তা হয়নি। আমি এখন আলজাজিরা প্রতিবেদনে উঠে আসা অনেক তথ্যের সঠিক উত্তর কোন সংশ্লিষ্ঠ ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের কাছে থেকে পাইনি। যা পেয়েছি সব আশেপাশের বন্ধু বা কলিগের কাছ থেকে।

আমার আশেপাশের মানুষগুলো গোপনে চালাচালি করেছে, চায়ের আড্ডায় হয়ত গোপনে কথা বলছে কিন্তু সামাজিক মাধ্যমে কেউ কোন কথা বলেনি। পক্ষে বিপক্ষে কোন দিকেই অবস্থান নিতে দেখা যায়নি। এক বিশেষ চাপা নীরবতা পালন করা শুরু হয়েছে এ দেশের সাধারন মানুষের মধ্যে।পরিবারের অভিভাবকেরা নির্দেশণা দিয়েছেন যেন এসব ব্যাপারে কেউ কোন কথা না বলে।

ডেভিড বার্গম্যান

আরো রিপোর্টের গুজব: 

আলজাজিরা আরো ছয়টি এমন অনুসন্ধানী রিপোর্ট প্রকাশ করবে বলে একটা গুজব খুব দ্রুত ছড়িয়ে পড়লো।গুজব সবসময় অসত্যই হয়। কিন্তু দেশে এমন উচ্চমান সম্পন্ন আরো অনুসন্ধানী প্রতিবেদন হতে পারে বলে মনে করে অনুসন্ধানী সাংবাদিকতার সাথে জড়িত অনেকেই। 

তনু হত্যা কিভাবে হলো? এখানে কি সেনাবাহিনীর কোন হস্তক্ষেপ ছিল কিনা? সাগর-রুনির হত্যাকান্ডের তদন্ত কেন আটকে আছে? শেয়ার বাজার ধ্বসের পিছনে কোন সংঘবদ্ধ চক্র কাজ করছে? কারা দেশের টাকা অবৈধভাবে বিদেশে পাঠাচ্ছে? কারা কারা কানাডা মালেশিয়ায় বাড়ি বানাচ্ছে? এরকম আরো অসংখ্য বিষয় আছে যা নিয়ে তুলকালাম অনুসন্ধান করা যেতে পারে বলে অনেকে মনে করে। কিন্তু এদেশে কেউ এসব বিষয়ে প্রতিবেদন করবেনা। কেন? তার উত্তরটা হয়ত খুব সহজ, তবে এই সময়কালকে বোঝার জন্য বিষয়টি খুবই গুরুত্বপূর্ন।

গোল্ডফিশ মস্তিষ্ক ও আমাদের সংস্কৃতি

রিপোর্টটি গতবছর প্রচারের পরেই ভীষণ আলোড়িত হয়ে লিখতে বসেছিলাম। কিন্তু শেষ না করেই রেখে দিয়েছিলাম। একবছর পর দেখছি গোটা বাংলাদেশ ভুলে গেছে ব্যাপারটি। এক বছরে বিশেষ কিছু ঘটেনি। সেনাপ্রধানের সহজ স্বাভাবিক প্রস্থান হয়েছে। বিশেষ কোন পদক্ষেপের কথা শোনা যায়নি।সাধারন মানুষের মত আমরাও ভুলে গেছি দ্রুত। গোল্ডফিশের মতো স্বল্প স্মৃতিশক্তি সম্পন্ন বলে বাঙালীর প্রচার আছে বাজারে। প্রচারটি হয়ত মিথ্যে নয়।

তবে অনুসন্ধানী সাংবাদিকতার এমন মজবুত ও গভীর প্রতিবেদন নির্মাণ আমাকে মুগ্ধ করেছিল, সেই মুগ্ধতা এখনও কাটেনি। আজ ১ ফেব্রুয়ারি আলজাজিরার রিপোর্টটিকে তাই স্মরণ করছি শ্রদ্ধা ভরে।

পারভেজ সেলিম

লেখক , সাংবাদিক ও চলচ্চিত্রকর্মী

ভিডিও সৌজন্যে : Al Jazeera

আরো পড়ুন:

0Shares

৯ thoughts on “‘অল দ্যা প্রাইম মিনিস্টার’স ম্যান’: অনুসন্ধান ও আমাদের সাংবাদিকতা!

  1. I’m impressed, I need to say. Really hardly ever do I encounter a weblog that’s each educative and entertaining, and let me inform you, you’ve hit the nail on the head. Your thought is outstanding; the issue is something that not enough individuals are speaking intelligently about. I’m very comfortable that I stumbled across this in my seek for one thing referring to this.

Leave a Reply

Your email address will not be published.

x