‘লেডিস এন্ড জেন্টেলম্যান’: এটা কি বানাইলেন ফারুকী!

0Shares
parvez salim alordeshe

পারভেজ সেলিম ।।

অফিসে বসের শ্লীলতাহানির শিকার নারী কর্মী সাবিলা। সে বসের অপকর্মের বিচার চায়! বিচার প্রক্রিয়া যখন নানা টালবাহানায় দেরি হচ্ছে তখনি খুন হন বস খায়রুল সাহেব। কে খুন করলো? কেন করলো? শেষে সাবিলার কি হল? এর উত্তর পাওয়া যায় সিরিজের গল্পে।

এটা কি থ্রিলার গল্প ! এই একুশ সালে এসে এত সহজ ব্যাপারটাকে এইভাবে বলার কারণ খুঁজতেছি।পাইতেছিনা। বস খায়রুল সাহেবে চরিত্রটা জমতে জমতেই খুন হয়ে গেল।

মোস্তফা সরয়ার ফারুকীর প্রথম ওয়েব সিরিজ ওটিটি প্লার্টফর্ম জি ফাইভে দেখা যাচ্ছে ৮ জুলাই, ২১ থেকে। খুব আগ্রহ নিয়ে দেখতে বসেছিলাম কারণ এটি ফারুকীর কাজ।

পরিচালক মোস্তফা সরয়ার ফারুকী

সবশেষ যে কাজটি আপনার দেখেছি সেটি ‘ডুব’ সেখানে দর্শকের উপর আপনি যতটা বিশ্বাস রেখেছিলেন, তার সিকি আনাও আপনি এবার রাখলেন না।

আপনি এখানে নিজেই সব বলে দিলেন। আপনার এই নির্মাণে আমি দর্শক হিসেবে নিজে বসবার জায়গাটুকু না পেয়ে বার বার উঠে যেতে চাইলাম। মনে হইল এইখানে আমি অবাঞ্চিত। আমাকে আপনার প্রয়োজন নাই। আমাকে আপনি জোর করে সব শোনাইলেন। যেহেতু আপনার প্রতি প্রেম ছিল তাই শেষ না করে উঠা গেল না।

আপনাকেই সব বলে দিতে হলো কেন? আমি নিজেও যে কিছু বুঝতে পারি সেইটা ভাবলেন না ! 

দর্শককে অপদার্থ ভাবলে সেইটারতো আপনারও গায়ে লাগার কথা।

কেন খুন করলো খুনি? সেইটা যখন তার মুখ দিয়ে শোনাইলেন তখন মনে হইল, আপনি ব্যর্থ পুরো সিরিজ জুড়ে এটা বোঝাইতে যে কেন এই ব্যক্তিটি খুনটা করতে পারে অথবা  আমি বেশি বুঝি। না বললে কি হইতো না ! 

‘লেডিজ এন্ড জেন্টেলম্যান’ সিরিজের চরিত্ররা

সাবিলা যখন সকল যুদ্ধ শেষ কইরা তার প্রাণের একমাত্র সম্বল বাপের কাছে ফিরা আসে, বাপের কোলে মাথা রাইখা কাঁদতে থাকে, তখন আমিও তার মত কাঁদবার জন্য তৈরি হইলাম। এমন সময় মনোলোগে এত এত কথা সাবিলারে দিয়ে কওয়াইলেন যে আমার কান্না থাইমা গেল। সব কথাই কইয়া দিলেন। সব কথা কইতে নাই বস। চুপ থেকেও তো কথা কওন যায় !!

ভাগ্যিস মামুনুর রশিদের অসাধারণ মুখটা সেসময় তখন ছিল।

ফুট প্রিন্ট বের করতে গিয়ে কত সময় নিলেন, অথচ বসের ল্যাপটপের  ফিংগার প্রিন্ট খুজলেই পাওয়া যেত খুনি। সিরিজ  দেখতে দেখতে মনে হইলো আমাদের দেশের সিআইডি কি এতটা দুর্বল ! নাকি আরো বেশি দুর্বল !!

মোবাইল চোর ধরতে যত ড্রোন শট ও সিআইডি’র দৌড়াদৌড় দেখাইলেন, বাড়ি খুঁজতে গিয়ে দোকানদারকে জানাইলেন সে এক কোটি টাকার লটারী পাইছে সাথে সাথেই দোকানদার আসামীর বাড়ি দেখাই দিলো বিষয়টা একটু কেমন পাতলা পাতলা হইয়া গেল না ?

ক্রসফায়ারের ভয় দেখাইয়া সিআইডি খুনিরে স্বীকার করাইলো। তারপর সেখান থেকে তারে নিয়ে রুমে আইসা সুন্দর কইরা জিগাইলেন, এবার কন খুনি সাহেব, আপনি কেন খুন করছেন?  খুনি একটা গল্প শোনাইলো। সিআইডি শুনলো আমিও শুনলাম। এইটডা কি হইলো ভাই! 

তাইলে সিআইডি ও আমার মতো দর্শককে একটু বেশি অপমান করা হইলো না ব্যাপারটায়? 

বস খাইরুলের চরিত্রে আফজাল হোসেন

বস খাইরুল চরিত্রটি বেশ। জটিল। হোক তবু বেশ লাগে। তিনি কবি। তার নরম মন। প্রথমবার যখন সাবিলার গায়ে হাত দেয় তখন তিনি ভুল ইশারায় হাত দিয়েছিলেন বলে জানান, তিনি ভুল স্বীকার করেন, পরে অপরাধীর মতো প্রায়শ্চিত্য করে ক্ষমা চাওয়া এক পরিশুদ্ধ মানুষ হিসেবে তাকে দেখতে পাই। আবার যখন তিনি সাবিলার সাথে একই কাজ করে, তখন আমার তাকে হিংস্র মনে হয় এবং এই চরিত্রটির প্রতি দারুণ আগ্রহ তৈরি হয় ।

এমন হিংস্র মানুষটা, ঘুমের ঔষুধ হিসবে মদ খাবে নাকি অন্যকিছু খাবে তা নিয়ে দ্বিধায় ভোগেন। তিনি হোটেলে  থাকেন লেখালেখি করার জন্য। চরিত্রটি বেশ জমজমাট।

সাবিলার স্বামী মাত্র পনের হাজার টাকা ম্যানেজ করতে পারে না, সাবিলা বসের কাছ থেকে টাকা নিতে হয়। এইটা বুঝতে কষ্ট হয় ।

আবার দেখেন যে বসের চরিত্র উন্মোচনের জন্য সাবিলা ফাইট করতেছে, একই অফিসে চাকরি করে তার স্বামী সন্দেহ করতেছে যে বসের সাথে তাে গোপন সম্পর্ক। এই আবেগে সে নিজের হাত কাটতেছে। তাদের দুজনের সম্পর্কটা আসলে কেমন তা স্পষ্ট হইলো না। 

সাবিলা চরিত্রে তাসনিয়া ফারিণ

গোবরে পদ্মফুলের মতো ফুটে উঠেছে সাবিলা চরিত্রটি। আপনি শুধু তার দিকেই নজর দিছেন। তাসনিয়া ফারিণ ফাটিয়ে অভিনয় করেছেন। যখন কথা বলছিল মনে হচ্ছিল সত্য বলছে, মেয়েটা যেন নিজের যুদ্ধের কথাই বলছে কিন্তু তার আশেপাশের মানুষগুলো সব বানানো মনে হয়।একমাত্র তার বাবা ছাড়া। সাবিলার পর সবচেয়ে উজ্জল চরিত্র সাবিলার বাবা। মামুনুর রশীদ এই বয়সেও আপনি অসাধারণ।

বসের চরিত্রে আফজাল হোসেন তবু পাশ করেছে। হাসান মাসুদ পিএস চরিত্রে দারুণ মানিয়েছে। বসের মেয়ে মারিয়াও বেশ, কিন্তু শেষ দিন সাবিলার বাসায় যখন গেল তখন তার ঠোঁটপালিশ দেয়া মুখ ভালো লাগেনি।

চঞ্চল চৌধুরী কেন? আপনি শুধু এটাই বলেন নাই। 

ক্যামেরার কাজ ভালো, বিশেষ করে প্রথমবার ধর্ষণ চেষ্টার দৃশ্য। মিউজিক বেশ বোধগম্য।

‘লেডিজ এন্ড জেন্টেলম্যান’ নামটার মধ্যে রহস্য আছে। ভালো। তবে আমার মনে হইছে এটি ‘ফাদারস এন্ড ডটার্স’ এর গল্প। 


আরো পড়ুন :

0Shares

৯ thoughts on “‘লেডিস এন্ড জেন্টেলম্যান’: এটা কি বানাইলেন ফারুকী!

  1. Definitely believe that which you said. Your favorite reason appeared to be on the net the simplest thing to be aware of. I say to you, I definitely get irked while people consider worries that they plainly don’t know about. You managed to hit the nail upon the top and also defined out the whole thing without having side effect , people could take a signal. Will probably be back to get more. Thanks

Leave a Reply

Your email address will not be published.

x