পারসিভেরেন্স রোভার যা করবে মঙ্গলে


পারভেজ সেলিম

পারভেজ সেলিম


আবারো মঙ্গলের মাটি ছুঁয়েছে মানুষের পাঠানো যান ‘পারসিভেরেন্স রোভার’। এর আগে মঙ্গলে চারটি সফল রোবোটিক মিশন চালিয়েছিল নাসা। কিন্তু এবারের মতো এত হইচই পড়েনি আগে। কিন্তু কেন ?  কি আছে এবারের পারসিভেরেন্স রোভারে? কি কি পরীক্ষা করতে সক্ষম এবারের রোভারটি?  মানুষের মঙ্গলে যাবার রাস্তা কতটা সহজ করতে পারবে এবারের মঙ্গল অভিযান ?

‘পারসিভেরেন্স’ মানে অধ্যবসায় বা উদ্দ্যম। এবারই এমন একটি মহাকাশ যান পাঠানো হয়েছে  মঙ্গলে যেটির এযাবৎ কালে সবচয়ে বুদ্ধিদীপ্ত রোভার। আছে নিজে নিজে সিদ্ধান্ত নেবার ক্ষমতা। আছে অসাধারণ কিছু টুলস যা মানুষের স্বপ্ন পুরুনে অনেকদুর এগিয়ে নিয়ে যাবে বলে ধারনা করা হচ্ছে । জানা যাক পারসিভেরেন্স রোভার যা যা করবে মঙ্গলের মাটিতে গিয়ে ।

১. শব্দ ও ছবি :

ছবি, ভিডিও, শব্দ পাঠানো  খুব সহজে কর্ম বানিয়ে ফেলেছে এবারের রোভারটি।  ২৩ টি ক্যামেরা আর ২ ট মাইক্রোফোন রয়েছে ছয় চাকার এই রোভারটিতে।এছাড়া আছে একটি ড্রোন ক্যামেরাও। ফলে অন্য গ্রহে গিয়ে প্রথমবারের মতো আকাশে উড়বে কোন যান ।

২. অক্সিজেন তৈরি :

রোভারে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ন টুসলটির নাম মোক্সি ( MOXIE)। এর কাজ হল মঙ্গলে অক্সিজেন তৈরি করা। কিন্তু কিভাবে করবে সে এই অভাবনীয় কাজটি। মানুষ আগে জেনছে  মঙ্গলের বাযুমন্ডলে আছে ৯৬ শতাংশ কার্বনডাইঅক্সাইড ( CO2)। মানে এতে কার্বন ও অক্সিজেন একসাথে আছে।

মোক্সিফ এর কাজ হলো সেই কার্বনডাইআক্সাইডকে ৮০০ ডিগ্রি তাপমাত্রায় ভেঙ্গে অক্সিজেন বের করা। এতে যদি সফল হয় তাহলে নাসা মিলিয়ন মিলিয়ন টন অক্সিজেন তৈরির জন্য বড় বড় মিশন পাঠাতে শুরু করবে মঙ্গলে। এবারের যাত্রায় মোক্সি দশ গ্রাম অক্সিজেন তৈরি করবে ।

আর অক্সিজেন তৈরি হলে মঙ্গলে মানুষের বসবাস কত সহজ হবে তা সহজেই অনুমান যায়। শুধু তাই নয় এই অক্সিজেন জ্বালানী হিসেবে ব্যবহার করে মঙ্গল থেকে পৃথিবীতে ফিরতে পারবে যে কেউ। মোক্সির সফলতা তাই খুবই গুরুত্বপূর্ন মানুষের মঙ্গলে বসবাসের জন্য।

৩. অতীতে পানির অস্তিত্ব পরীক্ষা :

এবারের রোভারটি যে জায়গায় অবতরন করেছে তার নাম,’ জেযেরো। সেখানে প্রাচীন কালে পানির লেক ছিল বলে ধারনা করা হয় । এবার সেই ধারনাটি পরীক্ষা করার পালা। রোভারের কাছে প্রযোজনীয় সকল টুলস রয়েছে যা দিয়ে পরীক্ষা করা সম্ভব অতীতে এখানে পানি ছিল কিনা । এছাড়া মঙ্গলের মাটির নিচে জমাটবন্ধ বরফের যে ধারনা করা হচ্ছে তাও যাচাই করার সমস্ত কিছু সঙ্গে রয়েছে রোভারটির।


আরো পড়ুন : মানুষের মঙ্গল যাত্রার ইতিহাস


৪. মাটি পাঠাবে পৃথিবীতে

এবারের ‘পারসিভেরেন্স রোভারটি’ মঙ্গলের মাটি ২ মিটার পর্যন্ত খুঁড়তে পারবে। সেই মাটি ৮ টি টিউবে করে পাঠিয়ে দেবে ইউরোপিয়ান স্পেস স্টেশনের দিকে। সেখান থেকে মঙ্গলের মাটি চলে আসব পৃথিবীতে। গবেষনার জন্য যা হবে এক অভাবনীয় ব্যাপার।

৫. ধুলিঝড় সামলাবে

মঙ্গলে ধুলিঝড় এক বিরাট সমস্যা। এর আগে আপরচুনিটি রোভার ধুলি ঝড়ের কবলে পড়ে পৃথিবীর সাথে যোগাযোগ বন্ধ করে দিয়েছিল ।এবারর রোবারে মেডা (MEDA) নামের একটি সেন্সর যুক্ত করা আছে যা পরীক্ষা করে দেখে মঙ্গলে বায়ুতে কি পরিমান ধুলা আছে এবং তা থেকে পরিত্রানের উপায় কি ?

৬. উড়বে মঙ্গলের আকাশে

১.৮ গ্রাম ওজনের একটি হেলিকপ্টার পাঠানো হয়েছে এবারের রোভারে সাথেযার নাম ‘ইনজিউনিটি’। এই মার্সকপ্টারটির পাখা প্রতি মিনিটে ২৫০০ বার ঘুরবে । মঙ্গলে বাযুমন্ডল পৃথিবীর থেকে ১০০ গুন পাতলা। এখানে হেলিকপ্টার ওড়ানো বিশাল এক চ্যালেঞ্জ। যদি এটি সফল হয় তাহলে মানুষ মঙ্গলে সহজেই চলাচল করতে পারবে হেলিকপ্টারে। এটি হবে মঙ্গলের আকাশে মানুষের প্রথম উড্ডয়ন ।

শেষ কথা :

মঙ্গলে যাওয়া নিয়ে এখন আর কারো সংশয় নাই । এখন শুধু সময়ের অপেক্ষা । নাসার ধারনা ২০৩৩ সালে অথবা ২০৩৯ সালের মধ্যে মানুষ পাড়ি জমাবে মঙ্গলে। আর বেসকারি উদ্দোগে ২০২৩ কিংবা ২০৩০ সালের মধ্যেই মঙ্গলে আবাস গড়তে চান ইলন মাস্ক । দেখা যাক কে আগে সফল হয় । মানুষ ছুটে চলুক মহাশুন্য থেকে মহাশুন্যে ।


পারভেজ সেলিম

লেখক ও চলচ্চিত্রকার


আরো পড়ুন : মঙ্গল মানুষের পরবর্তী ঠিকানা

Leave a Reply

Your email address will not be published.