ইয়াজিদের মৃত্যু যেভাবে হল

0Shares

পারভেজ সেলিম

পারভেজ সেলিম ।।


ইসলামের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় বেদনার ঘটনার নাম ‘কারবালা’। এই দিন মোহাম্মাদ সা. এর প্রিয় নাতি ইমাম হোসাইন ও তার ৭২ জন সঙ্গীকে হত্যা করা হয়। এই হত্যাকান্ডের  জন্য সবচেয়ে বেশি দায়ী তিনজন ব্যক্তি। এরা হলেন শিমার বিন জুলজওশান  যিনি নিজ হাতে খুন করেছিলেন ইমাম হোসাইনকে, এরপর ওবায়দুল্লাহ ইবনে জিয়াদ যিনি ছিলেন তখনকার কুফার গভর্নর এবং ইয়াজিদ ইবনে মুয়াবিয়া যার নির্দেশেই সম্পন্ন হয়েছিল কারবালার মর্মান্তিক ঘটনা। কিন্তু এমন জঘন্যতম হত্যাকান্ডের পর শেষ পরিনতি কি হয়েছিল এই তিন ঘৃণিত ব্যক্তির?

ইসলামে ইয়াজিদ একমাত্র খলিফা যার দ্বারা ইসলাম সবচেয়ে বেশি অবদমিত হয়েছে। ৬৮০ সালের মে মাসে ক্ষমতা গ্রহণের চার মাসের মাথায় শুরু করে যুদ্ধ । কারবালার যুদ্ধ। হত্যা করে শেষ নবীর প্রিয় নাতি ইমাম হোসাইনকে। এরপর দ্বিতীয় বছরে আক্রমণ করে মদিনা। লন্ডভন্ড করে দেয় মসজিদে নববী। আর জীবনের শেষ বছরে এসে ইয়াজিদ আগুন লাগিয়ে দেয় মুসলমানের সবচেয়ে পবিত্র স্থান কাবা ঘরে। এই তিন বড় অপরাধের জন্য মুসলমানদের কাছে ইয়াজিদ এক ঘৃণিত ব্যক্তিতে পরিনত হয় ।

কাবা ঘরে আগুন লাগানোর ১১ দিনের মাথায় রহস্যজনক ভাবে মৃত্যূ হয় ইয়াজিদের। শেষ হয় তার তিন বছর নয় মাসের ক্ষমতা। সময়টা ১২ নভেম্বর ৬৮৩ । ইসলাম মুক্ত হয় এক জালেম শাসকের হাত থেকে ।

কিভাবে মৃত্যু হলো ইয়াজিদের ?  

এই নিয়ে আছে নানা মত। তার মৃত্যুর অনেক কয়েকটি কারন সন্দেহ করা হয় :

১.  বিরল রোগ :

কারবালার ঘটনার পর এক বিরল রোগে আক্রান্ত হয় ইয়াজিদ। অজানা এই রোগের কোনো ধরনের চিকিৎসা দিতে পারেনি চিকিৎকেরা। কেউ কেউ বলে এসময় তিনি প্রচন্ড পানির তৃষ্ণায় ভুগতেন কিন্তু পানি দিলেই খেতে পারতেন না সেই পানি।এমনভাবে যন্ত্রনায় ছটফট করতে করতে পানির তৃষ্ণায় শেষ পর্যন্ত মারা যায় ইয়াজিদ।

২. গোসলখানায় মৃত্যু :

গোসলখানায় পড়ে গিয়ে মৃত্যুবরণ করেন ইয়াজিদ। ইয়াজিদ মধ্যপান করতো। বিশেষ রোগে আক্রান্ত হবার পর তার মাথায় প্রচন্ড যন্ত্রণা হত । এর থেকে মুক্তি পেতে  আরো বেশি মদ পান করতো। এমন মাতাল অবস্থায়  গোসলখান পড়ে গিয়ে তার মুত্যু হয়। মৃত্যুর পর অস্বাভাবিকভাবে তার পুরো শরীর কালো কুচকুচে হয়ে গিয়েছিল।

৩. ঘোড়া থেকে পড়ে :

ঘোড়া থেকে পড়ে মৃত্যু হয় ইয়াজিদের। ডাক্তারের পরামর্শে তার প্রিয় বানরকে নিয়ে শিকারে বের হয়েছিল ইয়াজিদ। হঠাৎ বানরটি হারিয়ে গেলে তাকে খুঁজতে এক গহীন পাহাড়ে গিয়ে পৌঁছায়। এমনসময় ঘোড়া থেকে পড়ে যায় ইয়াজিদ কিন্তু ছুটন্ত ঘোড়া আর না থেমে আরো দ্রুত ছুটতে থাকে। তার শরীর ঘোড়ার সাথে বাঁধা থাকায় পাথরের আঘাতে মৃত্যু বরণ করে ইয়াজিদ। আর ঘোড়াটি অস্বাভাবিকভাবে ছুটতে থাকায় ছিন্ন ভিন্ন হয়ে যায় ইয়াজিদের শরীর ।

৪.  হত্যা :

কারো কারো মতে হত্যা করা হয়েছে ইয়াজিদকে । একদিন তার প্রিয় বানর খুঁজতে গিয়ে তিনি পাহাড়ের গহীনে হারিয়ে যান। সেখানে এক অপরিচিত লোকের সাথে তার দেখা হয় । তৃষ্ণার্ত ইয়াজিদ তার কাছে পানি চাইলে, লোকটি তার পরিচয় জানাতে চায়। পরিচয় জানার পর ইয়াজিদকে তিনি আর পানি দেন না । ইমাম হোসাইনের হত্যাকারীকে চিনতে পেরে শাস্তিস্বরুপ  সেখানেই  হত্যা করেন ইয়াজিদকে। ইসলাম বিশ্বাসী অনেকে মনে করেন সেই অপরিচিত লোকটি ছিল আল্লাহ প্রেরিত কোন দূত।

এছাড়া হত্যার আরো একটি কারন অনুমান করা হয়  ইয়াজিদ রোমান বংশোদ্ভুত এক যুবতী মহিলার প্রেমে পড়েছিল। সেই মহিলার হাতে নির্জন এক মরুভুমিতে খুন হয়েছিল ইয়াজিদ। সেখানে তার শরীর পশুপাখির খাদ্য হয়েছিল।

তবে ইতিহাসবিদের মতে প্রথম ও তৃতীয় কারনটিই  ইয়াজিদের সবচেয়ে গ্রহণযোগ্য মৃত্যুর কারন হিসেবে ধরা হয়।

ইয়াজিদের মৃত্যুর পর ছেলে মুয়াবিয়া ক্ষমতায় আসে ২১ বছর বয়সে। তিন মাসের মধ্যেই মারা যান তিনি। শেষ হয় উমাইয়াদের শাসনামল। শেষ হয় ইসলামের এক ঘোরতর অন্ধকারের যুগ।


আরো পড়ুন : কারবালা : বেদনার এক ইতিহাস (পুরো পর্ব)


শিমারের মৃত্যু :

কারবালা হত্যাকান্ডের জন্য দায়ী অন্য দুই ঘৃণ্য ব্যক্তি হচ্ছেন শিমার বিন জুল জওশান ও ওবায়দুল্লাহ ইবনে জিয়াদ। তাদের শেষ পরিনতিও ছিল বড়ই করুণ।

ইয়াজিদ মারা যাবার দুই বছর পর ৬৮৫ এর অক্টোবরে কুফার ক্ষমতায় আসে মুখতার আল তাকাফি। ক্ষমতায় এসে কারবালা হত্যাকান্ডে জড়িত সকলের শাস্তি প্রদান শুরু করেন। ইমাম হোসাইনের সৎ ভাই মুহাম্মদ ইবনে আল হানাফির সহযোগিতায় মুখতার খুব সহজে কুফাবাসীর সমর্থন অর্জন করেন ।

মুখতারের নির্দেশে শিরচ্ছেদ করা হয় শিমার ইবনে জুলজাওশানের। কারো মতে মুখতার নিজ হাতেই খুন করেছিলেন শিমারকে। শিয়াদের ভাষ্য মতে মাটিতে পড়ে থাকা শিমারের দেহ ছিন্নভিন্ন করে ফেলেছিল কুকুরেরা ।

ইবনে জিয়াদের মৃত্যু :

আর কারবালা হত্যাকান্ডের ৬ বছর পর সেই কারবালার মাঠেই হত্যা করা হয়  ইবনে জিয়াদকে। দিনটিও ছিল ১০ ই মহররম।কি নির্মম পরিহাস ইমাম হোসাইনের শহীদ হবার দিনই নিহত হন ওবায়দুল্লাহ ইবনে জিয়াদ।

একইভাবে ইবনে জিয়াদের শিরচ্ছেদ করে কাটা মাথা পাঠানো হয় দামেস্কে। সেখানে হঠাৎ এক বিভৎস ঘটনা ঘটে। অনেকে দেখতে পান একটি সাপ ইবনে জিয়াদের কাটা মাথার নাক দিয়ে ঢুকে খুপরি দিয়ে বের হয়ে যাচ্ছে। অনেকে মনে করে কারবালার পাপের জন্যই এমন শাস্তিভোগ করেছে তারা।

কারবালা হত্যাকান্ডের প্রধান তিন ব্যক্তির এমন মৃত্যুর মধ্যে দিয়ে শেষ হয় ইসলামের এক কালো অধ্যায়ের। ইসলামে কারবালার প্রভাব সুদর প্রসারি ও গভীর বেদনার ।

আজ ১৪০০ বছর ধরে ইমাম হোসাইন যেমন মুসলমানদের মনে শ্রেষ্ঠ যোদ্ধা হিসেবে টিকে আছেন তেমনি পৃথিবীর শেষ দিন পর্যন্ত ইয়াজিদ ও তার সঙ্গীরা অত্যন্ত ঘৃণিত ব্যক্তি হিসেবে চিহ্নিত হয়ে থাকবে মুসলমানদের কাছে।


পারভেজ সেলিম

গণমাধ্যমকর্মী

আরো পড়ুন : ইয়াজিদের শাসনকালে অত্যাচার

ভিডিও সৌজন্য : banglabox
0Shares

৫৮ thoughts on “ইয়াজিদের মৃত্যু যেভাবে হল

  1. hey there and thank you for your information – I’ve certainly picked up anything
    new from right here. I did however expertise several technical
    points using this web site, since I experienced to reload the site a lot of times previous
    to I could get it to load properly. I had been wondering if your web host is OK?
    Not that I am complaining, but slow loading instances times will sometimes affect
    your placement in google and can damage your quality score if
    ads and marketing with Adwords. Well I am adding this RSS to my e-mail and
    can look out for much more of your respective interesting content.
    Make sure you update this again very soon.

  2. Растановки. Организационные расстановки Расстановки по Хеллингеру.
    Системно-феноменологическая психотерапия.

    Системные перестановки. Расстановки по Хеллингеру.
    Организационные расстановки.

  3. Вы можете смотреть Фильмы совершенно бесплатно смотреть фильм онлайн бесплатно форсаж 9 полностью смотреть онлайн фильмы
    2021 года, уже вышедшие в хорошем качестве HD 720 и 1080,
    бесплатно.

  4. Indihome Jakarta Timur saat ini ada dengan service pasang jaringan Indihome lewat cara online, anda tak perlu tiba ke kantor indihome untuk lakukan pendaftaran penempatan indihome.
    Ini adalah wujud pelayanan digital paling depan dari Indihome Jakarta Timur
    buat meringankan penduduk Jakarta Timur yang mau nikmati jaringan internet cepat indihome.
    Dengan memakai Tehnologi Fiber Optik, kami
    menjajakan beberapa pelayanan paket internet seperti Singgel Play, Dual Play juga Triple Play.
    Diluar itu kami pun tawarkan beberapa Add On Teratas buat anda rasakan sama keluarga.

  5. Indihome Jakarta Timur sekarang ada dengan service pasang jaringan Indihome lewat cara online,
    anda tidak perlu ada ke kantor indihome untuk melaksanakan register penempatan indihome.

    Ini adalah wujud pelayanan digital paling depan dari Indihome Jakarta Timur buat membantu orang Jakarta Timur yang ingin nikmati jaringan internet cepat indihome.
    Dengan memakai Tehnologi Fiber Optik, kami tawarkan sejumlah pelayanan paket internet seperti Singgel Play, Dual
    Play dan Triple Play. Tidak hanya itu kami tawarkan beberapa Add On Favorit buat anda rasakan sama keluarga.

Leave a Reply

Your email address will not be published.

x